Wednesday, March 29, 2017

হিজ মাসটার্স

- এই যে। এ'বার সিলিং থেকে নেমে আসুন। দেরী হয়ে যাচ্ছে যে।
- আপনি না গেলে আমি নীচে নামছি না।
- ছেলেমানুষি করলে কি হয় স্যার? আপনার জন্যেই আসা। আপনাকে না নিয়ে যাই কী করে। আর ভেসে বেড়াবেন না। নেমে আসুন।
- মিথ্যে কথা। আমি মরিনি।
- রক্তমাংসের বডি নিয়ে এর আগে কোনওদিন ভাসতে পেরেছেন?
- নিজের অজান্তেই লেভিটেশন শিখে গেছি হয়তো। আপনি আসতে পারেন। আমি ভাসি মরি, নিজেরটা নিজে বুঝে নেব।
- কী মুশকিল। লাশ দেখেও ধন্ধ কাটছে না?
- ও বডি আমার নাও হতে পারে।
- বটে? ইয়ার্কি হচ্ছে? দিব্যি বুকে ছুরি হজম করে অক্কা পেলেন। মেঝেতে জ্বলজ্বল করছে আপনার ভুষো কালী মাখানো বডির রক্তে চপচপ বুক। এখন নিজের বডিকে ডিনাই করছেন?
- বেশ করেছি। আপনি আসুন।
- আত্মা ক্লীয়ার করতে এসে এ কী ঝামেলা। নামবেন না কি আপনাকে আনপ্রসেসড স্টেটে রেখে চলে যাব?
- আপনার আইকার্ড আছে?
- মানে?
- মানে এই যে আত্মা কলেকশনে এসেছেন, আপনার কাছে আইডেন্টিটি কার্ড আছে? বা সুপারিশের চিঠি? যার তার কাছে নিজেকে হ্যান্ডওভার করব কেন? আছে? আইকার্ড?
- আলবাত আছে। আগে নামুন, তারপর দেখাব।
- আগে দেখান তারপরে নামব।
- আগে নামুন।
- আগে দেখান।
- আচ্ছা ঘ্যাঁতা মাইরি আপনি।
- আগে দেখান।
- এই যে। এই দেখুন আইকার্ড। আর এই হল সুপারিশের চিঠি। আর এ'টাও জেনে রাখুন যে আমি ছাড়া আপনার হিল্লে হবে না। কাজেই সুড়সুড় করে নেমে আসুন দেখি!

আইডেন্টিটি কার্ডটা ঘরের আঁধারেও জ্বলজ্বল করছিল।  তা'তে লেখা নামটা সিলিং থেকেও স্পষ্ট পড়তে পারলেন ভাসমান ওথেলোবাবু; "শ্রী উৎপল দত্তের কণ্ঠস্বর"। সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো সুপারিশের চিঠির অমোঘ টানে ছাত থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে এলেন ভদ্রলোক।

No comments:

বাইশের দুই বিনোদ দত্ত লেন

- কাকে চাই? - ম্যাডাম, এ'টা কি অমলেশ সমাদ্দারের বাড়ি? - ওই ঢাউস নেমপ্লেটটা চোখে পড়েনি? ও'টায় কি অমলেশ সমাদ্দার লেখা আছে?...