Friday, January 10, 2014

বিলু, বাবা ও মা

(হ-য-ব-র-ল থেকে Cross Posted)

বাবাঃ বিলু ব্যাটা দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে। যখন দেখি, তখনই ক্রিকেট ব্যাট হাতে ধেই ধেই করছে। তাও যদি বুঝতাম দ্রাবিড়ের মতো টেকনিক ডেভেলপ করছে। পাঁড় আনাড়ির মতো ক্রস ব্যাটে খেলে। এদিকে পড়াশোনাও জলাঞ্জলি। ক্লাস সেভেনের অঙ্কে আর ফিজিক্সে ভদ্রলোকে ফেল করে? ব্যাটাকে এ্যারেস্ট করা উচিত। 

মাঃ কত করে বললাম, অঙ্কে একটা টিউশানিতে হবে না। বিপিনদার ছেলের তিনটে অঙ্ক মাস্টার ঘরে পড়িয়ে যান। একজন জ্যামিতি, একজন বীজগণিত, একজন পাটিগণিত। আমার কথা শুনলে না। বললে ছেলের ব্রেনে প্রেশার পড়বে। এখন সামলাও ঠ্যালা। দিদির ছেলে অঙ্কে মিনিমাম নব্বই পায় প্রত্যেকবার। আর আমার ছেলে... ছিঃ! লজ্জা! 

বাবাঃ ঠিক বলেছ। ব্যাটার পাড়ার পুজোয় নাটক করা আমি ঘুচোচ্ছি। এইসা প্যাঁদানি দেবো না...

মাঃ বাজে বোকো না। তোমার আশকারাতেই ছেলেটা বিগড়ে যাচ্ছে।

বাবাঃ হোয়াট? আমার আশকারা? বিলু আমায় কত ইয়ে করে জানো? আমার গলার আওয়াজ শুনলেই ও খটখট করে কাঁপে, সে খবর রাখো?

মাঃ কচু। 

বাবাঃ ইরেস্পন্সিব্‌ল কথা বলবে না বলে দিচ্ছি। কী রে বিলু, ভয় পাস না তুই আমাকে?

বিলুঃ তুমিই বলেছিলে না বাবা, নির্ভীক হতে। নির্ভীক ছেলের কি ভয় পেতে আছে ?

বাবাঃ পয়েন্ট। 

মাঃ পাগলদের নিয়ে আমার সংসার। 

বাবাঃ তুমি আমাদের পাগল বললে কেন? উইথড্র করো। নয়ত আজ রাত্রের ডিনার আমি, বিলু দুজনে মিলে বয়কট করব। ইমিডিয়েটলি। নাউ। 

বিলুঃ আজ রাতে লুচি-পায়েস বাবা। আজকের ডিনার আমি বয়কট করতে পারব না। 

বাবাঃ ব্যাটাচ্ছেলে হনুমান, ইজ্জতের চেয়ে লুচি পায়েস বড় হলো? এই তোর ক্যারেক্টারের তেজ? এই তোর প্রতিবাদ করার ক্ষমতা? ছিঃ বিলু! অঙ্কে ফেল তো মামুলি ব্যাপার। আজ ফেল, কাল পাশ। ওতে চাপ নেই। কিন্তু তাই বলে সামান্য লুচি-পায়েসের লোভে নিজের ইন্টেগ্রিটি বেচে দিলি বাবা? এই তুই সত্যাগ্রহী মধুময় সমাজপতির নাতি?

মাঃ আরে! এটা কী হলো। বাবা হয়ে ছেলেকে বলছ যে অঙ্কে ফেল মামুলি ব্যাপার?

বাবাঃ অফ কোর্স মামুলি। অঙ্ক যদি পেল্লায় কিছু হতো তাহলে রবীন্দ্রনাথও নিয়মিত দুপুরবেলা আঁক কষতেন। আমি বলছি, অঙ্ক মামুলি। 

মাঃ চুপ করো। যতসব প্রলাপ। 

বাবাঃ ফ্রি স্পিচের গলা টিপে ধরতে চাইছ? মানছি না, মানবো না। বেশ করেছি অঙ্ককে মামুলি বলেছি। বিলু, খবরদার যেন আর অঙ্কে পাশ না করতে দেখি। অঙ্কে পাশ করলেই ধোলাই তোর কপালে। তুই জানিস আমি রাগলে কেমন ডাইনোসর গোছের হয়ে যাই। আমার সঙ্গে নো চালাকি। 
( হ-য-ব-র-ল থেকে cross-posted)

আমায় যেন আর ফিউচারে না শুনতে হয় যে তুই অঙ্কে পাশ করেছিস...

বিলুঃ আমি তোমার কথা কখন অমান্য করি বাবা?

বাবাঃ বুকে আয় রে। আহা! আজকালকার যুগে কটা ছেলে এমন বাপভক্ত হয় বলো তো বিলুর মা? সোনার টুকরো ছেলে আমার বিলু। ওর কভার ড্রাইভগুলো দেখেছ কখনও মাঠে গিয়ে? অবিকল সৌরভ। সুপার! 

মাঃ উফফ, কী পাগলদের সঙ্গে আমার জীবন যাপন। এবার আমি পাগল হয়ে গেলে শান্তি পাই। 

বাবাঃ ঐ রবীন্দ্রসঙ্গীতটা শুনেছ? যে তোরে পাগল বলে, তারে তুই বলিস নে কিছু। আহা! গানটা কিন্তু এই সিচুয়েশনে ভারি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। 

মাঃ তোমাদের দুজনেরই আজ রাতের খাওয়া বন্ধ। এই বলে দিলাম। 

বাবাঃ প্লিজ, মাইরি। কাল থেকে বসে আছি আজ রাতে লুচি-পায়েস খাব বলে। আজকের খাওয়াটা বন্ধ কোরো না প্লিজ। প্লিজ। প্লিজ।

No comments: