Friday, November 2, 2018

রসম-এ-মহব্বত

যে যাই বলুক, ভালোমানুষ চারদিকে দিব্যি ছড়িয়ে আছে৷ কেউ আলপটকা উপকার করে বেড়াচ্ছে, তো কেউ ট্যাক্স ফাঁকির কথা শুনলেই আঁতকে উঠছে। কেউ কেউ আবার অন্যায় দেখলেই তেলেবেগুন মোডে চলে যাচ্ছে। কাজেই ভালোমানুষের খোঁজ পাওয়া তেমন বড় ব্যাপার নয়। তার চেয়ে বরং ভালো ডিম তড়কার সন্ধান পাওয়া ঢের কঠিন। ফোড়ন মশলা ঠিকঠাক পড়তে হবে, ঝালনুন খাপে খাপ হতে হবে, ডিমের পরিমাণ বেশি কম হবে না; হাজার রকম নক্সা মেনে চলার কথা।

নেদু আলাভোলা মেজাজে তড়কা বানানো চলেনা। হাইওয়ের ওপর ট্রাক আসা যাওয়ার শোঁ শাঁ আর ঢাউস উনুনের ওপর চাটুতে পেঁয়াজ টমেটো লঙ্কাকুচি ছাড়ার চ্যাড়চ্যাড় শব্দ মিলে প্রিলিমিনারি সিম্ফনি তৈরি হবে। ধাবার ক্যাশিয়ারের থ্রুতে উনুনের ও'পাশে ইনস্ট্রাকশন যাবে "এক্সট্রা ঝাল হবে, ডাবল ডিম"।  নাকে আসবে রুটি সেঁকার গন্ধ আর পাশের টেবিল বা খাটিয়া থেকে ভেসে আসা চিকেন কষার সুবাস। স্টিলের গেলাসে ডিম ফ্যাটানোর ফটরফটর শব্দ কানে আসলেই জিভ তৈরি হবে; ওই এলো বুঝি। 

স্টিলের থালার পাশে একবাটি তড়কা আর ধবধবে হাফফুলকো খানকয় রুটি। সঙ্গে ফালি করা কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা আর সামান্য আচার। অবশ্যই সে তড়কা প্যাকেট করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার মানে হয়না। বাড়ির ডাইনিং টেবিলে বসে জি-টিভিতে সারেগামাপা দেখতে দেখতে তড়কা খাওয়া আর লুঙ্গি, স্যান্ডোগেঞ্জি পরে ব্রিসেবেনে ব্যাট করতে নামা; একই ব্যাপার। 

মুখভর্তি তড়কা-রুটির আবেশকে ইন্টেন্সিফাই করবে ধাবার ধারে দাঁড় করানো ট্রাকের স্ট্রিরিও থেকে ভেসে আসা কুমারশানুর আশ্বাস; " দিল হ্যায় কি মানতা নহি, মুশকিল বড়ি হ্যায় রসম-এ-মোহব্বত, ইয়ে জানতা হি নহি"..।

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...