Friday, April 13, 2018

সুইসাইড নোট



নীল বিষের বড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাথায় কেমন ঝিম ধরে গেছিল।
কী ভীষণ মায়া। কেমন ছায়াময় ভালো লাগা।

তবু। যেতেই হবে। নিজেকে খতম না করতে পারলে এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। হতে পারে না। মারা যযাওয়ার আগে পিতা পইপই করে বলেছিলেন সে ভয়ঙ্কর জিনিসপাতি না ঘাঁটতে। এত্তটুকুন দানা, সে'টুকু বুকপকেটে রেখে জীবন কাটিয়ে চলে যাওয়া। পড়ে থাকত অন্তত অন্ধকার আর সেই দানাটা।

কিন্তু ওই। একা থাকতে থাকতে বেয়াকুবের মত কাজটা করে ফেলেছিলেন তিনি। বুকপকেট থেকে দানাটা বের করে দু'আঙুলে চাপ দিতেই ঘটে গেছিল বিস্ফোরণ। সে এক চোখ ধাঁধানো মুহূর্ত।

প্রথম আলো দেখেছিলেন তিনি,
সে যে কী আনন্দ।

সেই প্রথম আলো দেখেছিলেন তিনি,
চোখ ধাঁধানো,
মনপ্রাণ ভাসিয়ে নেওয়া;

আলো।
পদার্থ।

তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠল আগামী;
প্রাণ, সুর, কথা, গান, কবিতা, ভোট, ট্যাক্স।
সমস্তটাই।
ক্রমশ চোখের সামনে আগামীর সিস্টেম গড়ে উঠিতে শুরু করল।

একবার মনে হল পিতা খামোখাই ভয় পাইয়েছিলেন। মন চনমন করে উঠেছিল। প্রাণের ফুরফুর, সুরের ঝরঝরানি, কথার কলকল, গানের ঝিরিঝিরি, কবিতার টুংটাং,  ভোটের ঠুকুরঠুক আর ট্যাক্সের ধুপুরধাপুড় মিলে সে এক মনোগ্রাহী সিস্টেম।

কিন্তু সে আনন্দ কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে গেল। দিব্য দৃষ্টিতে তিনি টের পেলেন এ ভালোমানুষি সিস্টেমের মূল অভিপ্রায় আসলে কী।

সমস্ত বোঝার পর পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তাঁর। সমস্ত আলো আর সমস্ত পদার্থ মিলে যে ভালোমানুষি সিস্টেমের মায়াজাল; তার একটাই লক্ষ্য;
সেই খুকির লাশ। খুকির ছিন্নভিন্ন দেহ। তার থেঁতলে যাওয়া মাথা। তার গা মাথা থেকে চুইয়ে পড়া রক্তে মিশে যাওয়া  যত গান, কবিতা, ভোট আর ট্যাক্সের ময়লা

শিউরে উঠেছিলেন তিনি। ককিয়ে উঠেছিলেন।

সৃষ্টির গোড়াতেই অসহায় ঈশ্বর নিজের মুখে পুরেছিলেন সেই নীল বিষের পুরিয়া। অন্যহাতের মুঠোর ধরা ছিল আগামীর দিকে ভাসিয়ে দেওয়ার চিরকুট ;

"আমায় ক্ষমা করিস না খুকি।
আমিই খুনি"।

No comments:

প্ল্যানপ্ল্যানানি

- গত পুজোয় আমরা হিমাচল যাওয়ার প্ল্যান করেছিলাম৷ তাই না বউ? - তাই তো। ট্রেনে দিল্লী। দিল্লী থেকে বাসে চেপে শিমলা। - আর তারপর একটা...