Saturday, April 21, 2018

কানমলা

- ব্রাদার, জব ডান। 
- যাক। ক'টা খরচ হল?
- তিনটে। 
- সে কী! দু'টো মানুষের জন্য তিনটে। 
- একটা বুলেট মাথার ডান দিক ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। ব্লিডিং যা হচ্ছিল তা'তে রিস্ক নেওয়াই যেত, তবে...। আইপিএলের ম্যাচ চলছিল। গেইল প্যাঁদাচ্ছিল। তাই আর অপেক্ষা করতে ইচ্ছে হল না। দিলাম তিন নম্বর মাঠে নামিয়ে। 
- অপচয় হে জুনিয়র, অপচয়। নাইনটি থ্রীর দুর্ভিক্ষ দেখনি তো, তাই এত মেজাজ। গেইলের ব্যাটিং দেখতে গুলি নষ্ট। অথচ নাইনটি থ্রীতে আমরা মার্ডার টার্গেটের ইন্টারভিউ নিতাম, সে গুলির জন্য কোয়ালিফাই করছে কিনা দেখতে। নয়ত স্রেফ বাঁশ-পেটা করে কাজ সারতে হত। 
- ভয়ানক সময় তো। হিউমান রাইটস বলতে কিস্যু ছিল না ব্রাদার। 
- আর এখন আমরা গেইলের ব্যাটিং দেখতে খরচ করছি বাড়তি গুলি। 
- সরি ব্রাদার। 
- যাক গে, এক্সেল শিট আপডেট করে দাও। এ মাসের ট্যালি কত দাঁড়াল?
- বাহাত্তর জন। খরচ একাশি। 
- ওয়েস্ট। ওয়েস্ট। তা এ'টা কি গেইলের এ মাসের ন'নম্বর সেঞ্চুরি ছিল?
- তা কেন ব্রাদার। প্রেম করছি। তাড়া থাকে মাঝেমধ্যে। 
- ফের সেই নাইনটি থ্রির মন্বন্তরের গল্পই করি। তখন তুমি হামা দিচ্ছ। আমি তখন ওই আকালেও টপাটপ লাশ ফেলে বেড়াচ্ছি। রাঘববোয়ালের জন্য জমিয়ে রাখতে হয় বুলেট। তা একদিন আমার প্রেমিকা...। 
- তোমার প্রেমিকা ব্রাদার?
- কেন?
- তোমার দেখলে কেমন টেবিল চেয়ার মনে হয়। তোমার আবার প্রেম। 
- তখন দেখলে নার্ভাস হয়ে পড়তে জুনিয়র। সর্বক্ষণ বুকপকেটে রক্তের ছিটে। বুলেটের অভাবে সমস্ত সুপারিকিলার ছটফট করছে অথচ আমার পকেটে আধপেটা খাওয়া জোড়া পিস্তল। মাঝেমধ্যে নিজেকে আয়নার দেখে নিজেই ঢোক গিলতাম। 
- তা প্রেমিকার কেসটা কী হল?
- বারুইপুরে একটা পুরনো পেয়ারাবাগান কিনেছিলাম, লাশগুম করার একটা নতুন জায়গা দরকার ছিল। সে পেয়ারাবাগান প্রথমবার দেখতে গেলাম প্রেমিকাকে নিয়ে। প্রেমে কেমন লোকে মাথায় চড়ে বসে দেখো জুনিয়র, সে আমায় বলে কিনা বুলেটে ছুঁড়ে পেয়ারা পেড়ে দিতে? ওই বুলেট আকালের বাজারে? তবে প্রেমিকার কথা। ফেলতে পারিনি। পত্রপাঠ খরচ করেছিলাম একটা বুলেট। 
- একটা বুলেটে ক'টা পেয়ারা?
- জিরো। 
- সে কী! তুমি ক্র্যাকশট। এক বুলেটে পেয়ারা পাড়তে পারলে না?
- একটা বুলেট। জিরো পেয়ারা, একটা পেয়ার। 
- হুঁ? 
- প্রেমিকাকে দিয়েই সে লাশগুমস্থান পেয়ারাবাগানের উদ্বোধন করেছিলাম জুনিয়র। বললামই তো, দুর্ভিক্ষে মানুষ ক্যানিবালিজমের পর্যায় কী ভাবে নেমে আসে তা সে'বার বেশ টের পেয়েছিলাম। 
- আইব্বাস ব্রাদার। 
- তাই তো বলি জুনিয়র, রিসোর্স নষ্ট কোরো না। রিসোর্স নষ্ট কোরো না। তা সে বুলেট হোক বা প্রকৃতি। অনিষ্টকারীর কানমলা খেতে দেরী  হয় না। বুঝলে? 

No comments:

তিব্বতি মাদুলি

- মনখারাপ? - আজ্ঞে। প্রচণ্ড। টেরিফিক লেভেলে মনখারাপ। - সে তো বুঝলাম। কিন্তু কেন? জয়েন্টে ফেল? মিনিবাসের পকেটমারিতে সত্তর টাকা জল...