Wednesday, April 2, 2014

অপুর সংসার

কদিন ধরে এ সময়ে মেঘ করে আসছে নিয়মিত। বৃষ্টি হচ্ছে না। আকাশ দানা দানা গুমোট জমা করে; তারপর নিজের মনেই অবহেলায় নষ্ট করে দেয় নিজের মেজাজ। দোতলার এই ঘুপচি ঘরের এই সামান্য ফোঁকর; জানালা না বলে বেয়াড়া সাইজের ঘুলঘুলি বললেই মানায় ভালো। সে জানালার চার খানি শিক ঘরখানার মধ্যে কয়েদখানার গন্ধ সঞ্চার করে। ওই শিক গুলো পেরিয়ে দৃষ্টি স্যাঁতস্যাঁতে দেওয়াল বেয়ে নেমে যায় কলকাতায়, অথবা জলের পাইপ বেয়ে উঠে যায় আকাশে।

এই আধলা জানলাখানা এই ঘুপচি ঘরে ভারি মানানসই। এই ঘুপচি ঘরখানাও আবার এই হাড়গিলে-বুড়ো বাড়িতে মানায় ভালো। ঠিক যেমন ভাবে এই বুড়ো বাড়ির দেওয়াল দিব্যি দাঁড়িয়ে যায় এই ঘিঞ্জি কলাকাতাইয়া গলিটিতে।  ভাবনাদের গায়ে হাত বুলিয়ে দেন অপূর্ব আর সিগারেটের ধোঁয়া মাখানো দৃষ্টি ছুঁড়ে দেন জানালার ওপারে।

ঘুপচি ঘরে আধ ভাঙা জলচৌকি। একটা কুঁজো। অল্প বাসন। দুটো হাত পাখা যার একটা ভাঙা। একটা আশি পাওয়ারের বাল্ব। সতের বছরের পুরনো একটা টেবিল ফ্যান; যার খাজনার থেকে বাজনার পরিমাণ দৃষ্টিকটু ভাবে বেশি।

অপূর্ব জানালায় মন বসান। বিকেলের আকাশ-মেঘ ফাঁকির তাল করছে। অপূর্ব নিজের সত্তর বছরের গালের খসখসে চামড়ায় হাত বুলিয়ে নেন। হাসি আসে, সঙ্গে কাশি। ওষুধের কথা মনে পড়ে যায় তাঁর। ওষুধের কথা মনে আসতেই কালচে দেওয়ালের কালচে ফ্রেমে বাঁধা লালচে ফটোয় চোখ চলে যায়। ঘরের আলো ঘোলাটে না তাঁর দৃষ্টি; স্থির বুঝতে পারেন না তিনি। না কি স্মৃতি টলমল করছে বলে এমন আবছায়া ?
অপর্ণা কে নিশ্চিত চিনতে পারেন না তিনি। অবশ্য তাঁর এই ঘুপচির ডাইমেনশনের তুলনায়; অপর্ণা কে বাদ দেওয়া  পঁয়তাল্লিশ বছরের আয়তন আকাশের মত ছড়ানো। উত্তাল।

দু সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর দৃষ্টি ফ্রেম থেকে জানলায় নেমে আসে। সিনথেটিক কাপড়ের ময়লা পর্দাটা এক দিকে টানা, কিন্তু তা সামান্য নড়ছে। এসেছে। হাওয়া এসেছে। অপূর্ব’র হাততালি দিতে ইচ্ছে করে। শহরের হাওয়াকে ঘরে বসিয়ে চা খাওয়াতে ইচ্ছে করে। অবশ্য আরথ্রাইটিসে যেভাবে কাবু তিনি, চৌকি ছেড়ে স্টোভের কাছে হেঁটে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। সেই সন্ধ্যে সাতটায় কাজের মেয়েটা আসবে, তবে এক কাপ চা। তারপর সে দুটো রুটি আর একটা হাবাগোবা তরকারি রেঁধে বেড়ে রেখে যাবে তাঁর চৌকীর মাথায় রাখা এক পায়া ছোট টেবিলে।

অপূর্ব ধমক দিয়ে মনকে জানালায় ফেরত আসতে বলে। এ পাশে ঘুপচি, ও পাশে আকাশ আছে। রামমোহন এই মাত্র এসে বসলে জানালার কার্নিশে।> চড়ুই হলে কি হবে, তাঁর দেমাক বেশ। রোজ এখানে এসে বসলেও, অপূর্ব’র সাথে আলাপের বিন্দু মাত্র ইচ্ছা কোনোদিনই সে প্রকাশ করেনি।

তবে লিপি রামমোহনের মত অত চঞ্চল নয়। একে মেয়ে, তার ওপর কচি বয়স। সর্বোপরি সে চড়ুই যেহেতু নয়, দুমদাম উড়ে পালাতেও পারে না। লিপি কচি অশ্বত্থ গাছের চারা। জানালা গোঁড়ার দেওয়াল চিরে দিব্বি বেয়ে উঠেছে। টসটসে খান কুড়ি পাতা তাঁর বুকে। অপূর্ব’র গল্প-আড্ডা ফাঁকি দিয়ে উড়ে যাওয়ার জো তাঁর নেই। অপূর্ব অবাক হয়ে ভাবে, মেয়ে বলেই কি লিপির এমন বন্দিনী দশা ?

জানালার শিক দিয়ে হাত গলিয়ে দিলেই লিপিকে স্পর্শ করা যায়। তবে সন্ধ্যে নামার আগে পর্যন্ত রামমোহন আশেপাশে ঘুরঘুর করে। তাঁর সামনে লিপিকে ছুঁতে হাত কাঁপে অপূর্ব’র।  

সন্ধ্যে গাড় হতেই লিপির প্রতি সটান হাত বাড়িয়ে দেন অপূর্ব। কলকাতা, বাল্বের ঘোলাটে আলো, ফটো ফ্রেম; এ সবই বে-ফালতু হয়ে আসে তাঁর কাছে। ছোটবেলা ফিকে হয়ে আসে। তাঁর মায়ের কথা, দিদির কথা ছলছলে আবছা হয়ে যায়। পড়ে থাকে লিপির নারীত্ব।
অপূর্ব শিউরে ওঠেন লিপির বুকের ওপর হলহলে সবুজ পাতা জোড়ায় হাত দিতে গিয়ে। কচি বুক সে মেয়ের। বয়েসে তাঁর গোড়ালিরও নিচে। কিন্তু লিপি মেয়ে,  অপূর্ব’র হাতের মুঠোয় থাকা কার্নিশ বন্দী এক অসহায় মেয়ে। অপূর্ব বহুবার বকেছেন নিজেকে। আহা! ওই টুকু মেয়ে। কিন্তু সন্ধ্যের অন্ধকারে রামমোহন সরে যেতেই সমস্ত গোলমাল হয়ে যায় তাঁর। নিজের ডানের হাতের আদুরে মুঠোয় লিপিকে মুচড়ে চলেন অপূর্ব। লিপির শরীরের সমস্ত পাতা খাবলে চলেন তিনি; লিপি তখন পুঁচকে মেয়েটুকু নয় – নারী, পূর্ণ নারী। অপূর্বর ডান হাত কখনও বেসামাল হয়ে বোঁটা শুদ্ধু উপড়ে ফেলে লিপির বুকের কোনও পাতা।

ক্রমশ তাঁর বাঁ হাত নিজের কোমরের ধুতির বাঁধন আলগা করে দেয়।
  
     

3 comments:

Prasad Mukherjee said...

Awesome.. great

Abhishek Mukherjee said...

বড় হয়ে গেলি তো।

Tanmay Mukherjee said...

@AbhishekDa :

:D