Friday, January 16, 2026

সাহাবাবুর রেসিগনেশন

সহকর্মী হিসেবে সাহাবাবুর তুলনা হয় না৷ কর্মঠ, সৎ, এবং হাসিখুশি। কাজে ফাঁকি একদম বরদাস্ত করতে পারেন না, অথচ কী ভাবে যেন ইঁদুরদৌড় থেকে গা বাঁচিয়ে দিব্যি কর্মজীবনটা কাটিয়ে দিলেন৷ গপ্প-আড্ডায় মাঝেমধ্যেই বলতেন, "কম্প্রোমাইজ করবো না কোনোদিন বুঝলে। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সব করতে রাজি কিন্তু নিজের হিসেবে, নিজের মত করে কাজ করব। জোরজুলুম হুজ্জুতি কিছুতেই মেনে নেবো না। আর যে'দিন দেখব নিজের মত করে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না, সে'দিন? চিঠি রেডি রেখেছি"। এই বলে নিজের টেবিল ড্রয়ার খুলে একটা ভাঁজ করা কাগজ দেখিয়ে মুচকি হাসতেন ভদ্রলোক। সাহাবাবুর ড্রয়ারে মজুদ রেসিগনেশন লেটারকে আমরা বলতাম সাহাস্ত্র। সাহাবাবু মুচকি আসতেন।

আজ ভদ্রলোকের অফিসের শেষ দিন। সন্ধেয় ফেয়ারওয়েল ফাঙশন। দুপুরের দিকে আমি আবদার করলাম, "ও চিঠির তো আর কোনো কাজ নেই। আজ আমাদের দেখান না"। নির্দ্বিধায় সে কাগজ ড্রয়ার থেকে বের করে আমায় দিলেন সাহাবাবু। সে ভাঁজ খুলে দেখলাম সে'টা মাসকাবারির ফর্দ। চাল, ডাল, তেল, নুন, আটা, মশলা আর যা কিছু আটপৌরে। আমায় হতবাক দেখে ভদ্রলোক অমায়িক সুরে বললেন, "ব্রাদার। ওই লিস্ট আমি প্রতি মাসের পয়লায় বানাই। যখনই মনে হয়েছে নিজের মত করে কাজ করাটা কাজের চেয়েও জরুরি, তখনই একবার টুক করে এই কাগজ খুলে নজর দিয়েছি। ম্যাজিকের মত কাজ দিয়েছে"।

"তা'হলে এ'টা রেসিগনেশন লেটার নয়"?

"রেসিগনেশনই তো ভায়া। তবে নিজের কাছে। সাহাস্ত্র টু কন্ট্রোল দ্য গ্রেট সাহা।।রেসিগনেশন টু সেল্ফ"।

No comments: