মনমোহিনীর জানালার সঙ্গে সম্পর্কটা বড় মজবুত। এমনিতে হাবেভাবে সে বড়ই চঞ্চল, দুদ্দাড় করে গোটা বাড়ি মাথায় তুলছে। এই খামোখা উৎসাহে লাফাচ্ছে, তো এই অকারণ আনন্দে গড়াগড়ি যাচ্ছে।
কিন্তু সে'টা তার বাইরের পরত। নিপাট শান্ত ভিতরটা বেরিয়ে আসে সে যখন জানালার পাশে এসে বসে। তখন সে নরম। মধুবাবু কাছে এসে বসলে সে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখবে, ওই একটা "এসেছ? এসো" ভাব। তারপর ফের জানালার বাইরে চোখ। গাছের পাতার ঝিরঝিরে মুভমেন্ট যে চোখের জন্য এত মোলায়েম সে'টা মধুবাবুকে শিখিয়েছে মনমোহিনী। দেওয়াল বেয়ে পিঁপড়েদের হেঁটে যাওয়াও যে এত 'সুদিং', সে'টা মধুবাবু এদ্দিনে বুঝতে পেরেছেন। নীচের দিকে তাকালে দেখা যায় উঠোনে ছেলেমেয়েদের ছুটোছুটি, অদূরে রাস্তায় মানুষজনের হেঁটে যাওয়া। দু'মিনিট দেখলে মনে হয় সমস্তটাই এলোমেলো, র্যান্ডম। মিনিট দশেক সে'দিকে তাকিয়ে থাকলে বিরক্তি আসে। কিন্তু একটানা মিনিট কুড়ি তাকিয়ে থাকার পর মনের মধ্যে প্যাটার্নটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে; অতি র্যান্ডম দুনিয়ায় প্যাটার্ন চিনতে পারার মত আরামদায়ক ব্যাপার খুব কমই আছে। সে আরাম মধুবাবু চিনেছেন জানালাপ্রেমি মনমোহিনীর থেকে।
বাড়ির এই জানালাটার একটা নাম রেখেছেন মধুবাবু; "নেটফ্লিক্স"।
No comments:
Post a Comment