Friday, January 16, 2026

সন্দীপনের ভ্যান


সন্দীপন ভ্যান চালান। এ মাল ও মাল, এ'খান থেকে ও'খান। ভোর থেকে সন্ধে, হপ্তায় ছ'দিন। বাড়তি রেটে পয়সা দিলে রোববারও বেরিয়ে পড়তে আপত্তি নেই তাঁর। টাকা জিনিসটা দরকারি, দরকারকে উড়িয়ে দেওয়ার বিলাসিতা সন্দীপনের না-পসন্দ। তবে সে দরকারটার বাইরে গিয়ে সন্দীপন গান ভালোবাসেন, ভালোবাসেন গুনগুন করতে। কিশোরকুমারের একটা ছবি তাঁর বাড়ির দেওয়ালে টাঙানো, সে ভালোবাসাটা নেহাত দেখনাই নয়।

ফুডডেলিভারি অ্যাপের দুনিয়ায় মাঝে একবার ঢুঁ দিয়েছিলেন। দু'পয়সা বেশি কামিয়ে নেওয়ার একটা সুযোগ ছিল। এবং সেই প্রতিনিয়ত দশ মিনিটের যুদ্ধে কিশোরকুমার বিদেয় নিয়েছিলেন। বিদেয় নেওয়াটা বড় কথা নয়। সন্দীপন আজও ভেবে অবাক হয়ে পড়েন যে কিশোরকুমারের সেই চলে যাওয়াটাকে পাত্তা দেওয়ার সময়ও তখন তাঁর হাতে ছিলো না।

টের পেয়েছিলেন আচমকাই। দশ মিনিটের হুড়মুড়ে একদিন তাঁর স্কুটারের চাকা ফসকে সে একটা বিশ্রী ব্যাপার। ছ'মাসের কাজ না থাকার সময় কিশোর ফিরেছিলেন। পেটের খিদে সে ভদ্রলোকের গানগুলোকে তেমন ম্লান করতে পারেনি দেখে বেশ অবাক হয়েছিলেন সন্দীপন। বেশ একটা নিশ্চিন্দি ভাবও টের পেয়েছিলেন।

সন্দীপন ভ্যান নিয়ে দিব্যি আছেন। কিশোরে ফিরেছেন। আর আবিষ্কার করেছেন যে বোগানভেলিয়া তাঁর বড় প্রিয়।

No comments: