স্বপ্নে দেখলাম আমাদের স্বপ্ন ডাইরেক্টলি টেনে নিয়ে রীল হিসেবে প্রকাশ করছে ফেসবুক। আর হয়েছে কী; আমার একটা মামলেট বানানোর স্বপ্ন রীল ট্রাম্পের সমস্ত রীলের চেয়ে বেশি লাইক পেয়েছে। তারপর যা হওয়ার তাই হয়েছে, ট্রাম্প সোফাসমেত আমায় ওয়াশিংটনে তুলে নিয়ে গেছে।
"কী ব্যাপার ভাইটি, এমন রাষ্ট্রবিরোধী স্বপ্ন দেখার তুমি সাহস পেলে কী করে"? স্পষ্ট বাংলা। যা শুনে স্বপ্নের আমি তো থ, "চুপ করে থাকলে পার পাবে না। চটপট জবাব দাও"।
"ওই কে কোথায় আছিস এ ব্যাটার দেশকে আমাদের বাহাত্তর নম্বর রাজ্য হিসেবে জুড়ে দে। দিয়েছিস? দিয়েছিস তো? ভেরি গুড। হ্যাঁ, কী বলছিলে"?
"বলছিলাম মামলেট রাষ্ট্রবিরোধী কেন"?
"রবীন্দ্রনাথ কি মামলেট খেতেন"? স্পষ্ট উৎপল দত্তের কণ্ঠস্বর নকল করে বললেন, আমি রবি ঘোষের মত বিব্রত হলাম।
"রবীন্দ্রনাথকে তো আপনি গত পরশু ব্যান করেছিলেন আপনার থেকে একটা নোবেল বেশি পাওয়ার অপরাধে। অতএব তাঁর মামলেট খাওয়া না খাওয়ায় কী এসে যায় বলুন"।
"এই কে কোথায় আছিস। একে মিউট কর"। মার্কিন টেকনোলজির বহর দেখে আমি তো হতবাক, সত্যিই কথা বন্ধ হয়ে গেল আড়ালে কেউ কোনো সুইচ টেপায়।
"হ্যাঁ, যা বলছিলাম", ট্রাম্প বলা শুরু করলেন, "এই যে তুমি আমার হাতে-পায়ে ধরে এতক্ষণ কান্নাকাটি করলে তাতে আমার মন গলেছে"।
আমি প্রতিবাদে মাথা নাড়তে গেলাম। টের পেলাম মাথা-ঘাড়ও মিউট করে দিয়েছে। কোথায় লাগে চীনের টেকনোলজি।
"আর এই যে তুমি তোমার স্বপ্নগুলো আমায় সতেরোটাকায় বেচে দিতে চেয়ে অনুরোধ উপরোধ করছ, তা'তে আমি আর না বলতে পারছি না"।
আমি হাত পা নেড়ে প্রতিবাদ করতে গেলাম। টের পেলাম গোটা শরীর অবশ।
"জানো", ট্রাম্প বেশ ইয়ারদোস্তির সুরে বললেন, "গতকাল আমি বাংলায় একটা গান লিখে পোস্ট করলাম। জীবনে কী পাব না, ভুলেছি সে ভাবনা। আড়াই কোটি লাইক এলো আড়াই সেকেন্ডে। বিউটিফুল না? যাক গে , শোনো। আমায় না বলে তুমি আর স্বপ্ন দেখো না, কেমন"?
বাহাত্তর বার না বলার চেষ্টা করলাম অথচ গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোল না। কিন্তু যেই বলতে চাইলাম "তাই হবে স্যার", আমার গলা বেয়ে বাহান্নটা অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠস্বর বেরিয়ে এলো।
No comments:
Post a Comment