Monday, October 4, 2021

লক্ষ্মণের শক্তিসেল



আমাজনে সেল৷ ফ্লিপকার্টে সেল৷
ত্রাহিত্রাহি অবস্থা৷
মাঝেমধ্যেই একের পর এক আইটেম দেখে চলেছি৷ রিভিউ পড়ে চলেছি৷ গড়িয়াহাট ফুটপাথে ঘোরাঘুরির কন্ডিশনিং বয়ে বেড়াচ্ছি, ইয়াব্বড় ডিসকাউন্ট ট্যাগ দেখলেই মনে হয় জলের দরে কেউ হীরাজহরত বিলিয়ে দিচ্ছে৷ একটা ডিজিটাল কলমদানি দেখলাম, সে'খানে কলম রাখা যায়, তার গায়ে মোবাইল হেলান দিয়ে রাখা যায়, এমন কি তাতে ইনবিল্ট ব্লুটুথ স্পিকারও আছে। কপিল ক্রিকেট ছাড়ার পর ভারতবর্ষ এমন অলরাউন্ডার আর দেখেছে বলে মনে হয়না৷ অবশ্য এ'সব জিনিস এমনিতে পাত্তা দিই না৷ কিন্তু বেয়াল্লিশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট শুনলেই বুকের ভিতর একটা রোম্যান্টিক আনচান টের পাই৷
পেল্লায় সব মোবাইল ফোন পেল্লায়তর ডিসকাউন্টে রয়েছে, তার ওপর এক্সচেঞ্জ বোনাস৷ নিজের হাতের সুস্থ ও মজবুত মোবাইলটার দিকে তাকিয়ে মেজাজ খিঁচড়ে যায়। পোড়ামুখো কই মাছের আয়ু নিয়ে এসেছে, এদিকে ধামাকা সব সেলস অফার হাত ফস্কে বেরিয়ে যাচ্ছে৷ যখন ইন্টারনেট এমন খোলামকুচির মত ছিল না, যখন হাফ জিবি ডেটা কিনতে গিয়ে সোনার আঙটি বন্ধক রাখার কথা ভাবতে হত; তখন ভাবতাম কোনওদিন ডেটা কাঙাল হওয়ার চিন্তা না করে ইউটিউব দেখার সুযোগ পেলে প্রচুর ভালো ভালো ভিডিও দেখে নিজের জ্ঞানের ভাণ্ডার ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলব। বিজ্ঞান, ইতিহাস, জেনারেল নলেজ; এ'সব দেখেটেখে পৌঁছে যাব ঘ্যাম লেভেলে৷ এখন ইউটউব ব্ল্যাকহোলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেঁধিয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের রিভিউ দেখে৷ অমুক ফোনের হাওড়া ব্রিজের সাইজের র্যাম, তমুক ফোনের ক্যামেরা দিয়ে জুপিটার গ্রহের গায়ের ব্রণটিও দেখা যায়৷ সেই সব মারকাটারি ফোনের ওপর মারকাটারি ডিসকাউন্ট অথচ আমার ফোন কেনার কোনও প্রয়োজনই নেই৷
কিছুই কেনার নেই। তবু কোনও কাজে মন বসছে না৷ মাঝেমধ্যেই শপিং সাইটে ঢুঁ মারছি আর কার্টে অদরকারী কিন্তু ডিসকাউন্টে ভরপুর সব জিনিসপত্র অ্যাড করছি। এ'দিকে পুজোর মাস৷ পকেটে বারোখানা গড়ের মাঠ ঢুকে যাবে, সাইত্রিশখানা মনুমেন্টসহ৷ অথচ আইপিএলের প্রতিটি ওভারের মাঝখানে, গল্পের বইয়ের তিন পাতা অন্তর বা বাসন মাজতে মাজতেও শপিং কার্টের দৈর্ঘ্য বেড়েই চলেছে৷
এক এক সময় মনে হয় শপিং বাউল হয়ে যাই৷ সাতপাঁচ ভেবে কী হবে৷ ডিসকাউন্টের লক্ষ্মীকে পায়ে না ঠেলে কিনেই ফেলি একটা ব্লুটুথ স্পীকার বা তিরিশ প্যাকেট কোরিয়ান নুডলস৷ কী আর হবে ইন্সুরেন্সের প্রিমিয়াম দিয়ে।
নেহাৎ মনের মধ্যে গা এলিয়ে থাকা গেরস্থ ভদ্রলোক মাঝেমধ্যে কড়া ধমক লাগায়, তাই বাঁচোয়া৷ সে ধমকে টনক নড়ে, মেডিক্লেমের কথা মনে পড়ে, শপিং কার্ট ফাঁকা হয়ে আসে৷ যন্ত্রণা কাটে মাছের বাজারের থলি হাতে দুলকি চালে বেরিয়ে পড়ার প্রাণায়ামে৷

No comments:

পুরনো লেখা