Thursday, February 7, 2019

সকল দেশের সেরা


- হ্যান্ডস আপ!

- কাটা গেছে স্যর, দু'টোই। তবু কল্পনায় দু'হাত তুলে ধরলাম..ফায়্যার করবেন না প্লীজ। পেটে বড্ড খিদে, এত খিদে নিয়ে ফস করে মরে গেলে যদি অম্বল হয়?

- বাজে ঠাট্টা একদম নয়! একদম নয়। নেতার হুকুম, বাজে ঠাট্টা শুনলেই ঢিশকাঁও!

- সৈনিকদাদা, বন্দুক আপনার হাতে। আমার হাত জোড়াই বরং গায়েব। আমি ঠাট্টা করি কোন মুখে?

- তা এত রাত্রে কাঁটাতারের তল দিয়ে সটকাবার তাল  করেছ ব্যাটাচ্ছেলে? তোমার তো সাহস কম নয়!

- কাঁটাতারের তল দিয়ে...ও মা! আমি কি পাগল না আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় নেতার ফর্সা নাকের ডগায় বসা বেয়াদপ মশা? আমি কাঁটাতার পেরোব? আমি কি জানিনা যে ও'পারে শত্রুদেশ?

- বাজে কথা বলবে না! বাজে কথা বলবে না! পেরোতে না চাইলে এই অসময়ে কাঁটাতারের আশেপাশে ঘুরঘুর করছিলে কেন?

- আজ্ঞে সৈনিকদাদা, থুতু ফেলতে এসেছিলাম। কাঁটাতারের ও'পারে। হারামজাদাদের দেশের মাটিতে থুতু ছিটিয়েও শান্তি। তাই না?

- চোপ! ধরা পড়লে সবাই ও'সব বড় বড় কথা বলে।

- না গো না, আমাদের নেতামশাই কত ভালোবাসা দিয়ে এই দেশ গড়েছেন। আমাদের এ স্বপ্নের দেশে কত দেশাত্মবোধক গান, কত দেশ গড়ার বই, আমাদের সেনা কত মজবুত, আমাদের রক্ত বিপ্লবে টইটম্বুর! আর ওই হারামজাদাদের দেশে দিনে তিনবেলা থালাভরা ভাতখাওয়ার আদেখলাপনা, হাসপাতালে ওষুধ ডাক্তারের ন্যাকামো আর কলকারখানায় ব্যস্ততার শয়তানি।

- তিনবেলা ভাত খায়? ও'দেশের লোক?

- বখে গেছে গো সৈনিকদাদা, ও দেশে এক্কেবারে বখে গেছে। শয়াতানের ছেলেদের আবার অনেক নেতা, অরাজকতা এমন পর্যায় গেছে যে সে ব্যাটাবেটিদের ভোট দিয়ে নেতা বাছতে হয়।

- এই তুমি শত্রুদেশের নিন্দে করছ না প্রশংসা?

- তৌবা তৌবা, ওই জানোয়ারদের দেশের প্রশংসা করব আমি? আরে আমাদের এই শ্রেষ্ঠ দেশ ভুলে আমি ওই নরকের প্রশংসা করব? আমি কি উন্মাদ না আমাদের আদরের নেতার পায়ের ফোস্কা? এমন অপবাদ দেওয়ার আগে আমার কপালে গুলি করলে না কেন সৈনিক? নেহাত গোপনে বিদেশি খবরের কাগজ পড়ে ফেলেছিলাম তাই মহান নেতার অনুপ্রেরণায় তার সাগরেদরা আমার হাত দু'টো টুক করে কেটে ফেলেছিল; নয়ত আমি নিজের হাতে আপনার বন্দুক কেড়ে নিজের মাথায় ঠুকে দিতাম।

- বাজে কথা বন্ধ করে বলো দেখি, তুমি একা এসেছ না সঙ্গে ছেলেমেয়েবৌ আছে?

- ছেলেমেয়েবৌ? ছিল বটে। কিন্তু নেতার দেখানো বিপ্লবের পথে তাঁরা শহিদ হয়েছে সৈনিকদাদা।

- শত্রুসেনা তাঁদের কোতল করেছে?

- তেমনটাই হতে যাচ্ছিল কিন্তু শত্রু সৈন্যের হাতে পড়ার আগেই টপাটপ তারা মরে গেল হে। খিদে জিনিসটা যে এত গোলমেলে সে'টা টের পাইনি। তবে নেতা বলেছেন খিদে আর রক্ত ছাড়া বিপ্লব হয়না। নেতার জয় হোক, এ দেশের জয় হোক।

- তুমি তা'হলে শত্রুসেনার কাছে আশ্রয়ভিক্ষা করতে আসনি?

- কতবার বলব সৈনিকদাদা! না! শত্রুশিবিরে গিয়ে একবাটি ভাত খেয়ে প্রাণ আইঢাই করে মরি আর কী! আমি শুধু দেখতে এসেছিলাম এ কাঁটাতার কতটা মজবুত।  আর ও দেশের মাটি তাক করে থুতু ফেলতে।

- বেশ, প্রাণে না মেরে তোমার দুই ঠ্যাঙে দুটো গুলি ঠুকে ছেড়ে দিচ্ছি। নেতা বলেছেন; উদারচেতা হতে হবে।

- আমাদের ভালোবাসার নেতা অমর রয়ে। আমাদের দেশের ওপর যেন আন্তর্জাতিক ইতর সমাজের চোখ না পড়ে।

No comments:

প্ল্যানপ্ল্যানানি

- গত পুজোয় আমরা হিমাচল যাওয়ার প্ল্যান করেছিলাম৷ তাই না বউ? - তাই তো। ট্রেনে দিল্লী। দিল্লী থেকে বাসে চেপে শিমলা। - আর তারপর একটা...