Wednesday, February 11, 2015

গান

“এসো এসো আমার ঘরে এসো আমার ঘরে”, গাইছিলেন অনন্তবাবু, “বাহির হয়ে এসো তুমি যে আছো অন্তরে”। আজ অফিস থেকে একটু বেশিই আগে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সামান্য ফাঁকি আর কি! অনন্তবাবু তো কবিতা লিখতে পারেন না, তাই হিসেব লেখার কেরানীগিরির কাজে আলতো ফাঁকি দেওয়াটাই তার কাছে কবিতা লেখার মত আরামের।ব্যাচেলর হওয়ায় জীবনটায় একটা দরদী জেল্লা আছে। বাজারপত্তর নেই, বউয়ের ব্লাউজ কেনার বা বাপের বাড়ি যাওয়ার বায়না নেই, ছেলে-মেয়ের এটা দাও সেটা দাও নেই।  বিকেল পাঁচটার মধ্যে বাড়িতে ঢুকে লুঙ্গি আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরে ঝুল বারান্দায় বসে পড়া। কাঠের চেয়ারে হেলান আর বেঁটে বেতের মোড়ার উপর পা। খাসা। হাতে এক কাপ লেবু চা, নিজের বানানো। এক বাটি মুড়ি মধ্যে এক পিস্‌ বেগুনী, অফিস ফেরতা নিধুর চপের দোকান থেকে আনা। আগে আনতেন দু’পিস্‌ করে। মাগ্যির বাজারে একটা বেগুনীই যথেষ্ট, তাছাড়া বয়স বাড়ছে- দু’খানা বেগুনী হজম করার দিন আর নেই।

অনন্তবাবুর সুর নেই তবে গলাখানা আবেগে ঠাসা। তিনি সত্যিই গান ভালোবাসেন, তিনি জানেন জীবনে আবেগটাই হচ্ছে আসল বেগ আর আবেগের ইসবগুল হচ্ছে গান। বাথরুমে, মিনিবাসে, রান্নাঘরে, ফুটপাথে, সর্বত্র গান গেয়ে চলেন তিনি। কখনো চাপা মিনমিনে গলায়, কখনো বাঁজখাই কণ্ঠে। তবে গান তাকে ছেড়ে যায় না। অনন্তবাবুর বন্ধু নেই, আত্মীয় নেই, গান আছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে আধুনিক, সমস্তই চলে তার। এমনকি রফি মুকেশের হিন্দি গানেও বিশেষ পিছপা নন তিনি। তিনি জানেন যে গান আর কষা মাংসের কোন জাত হয় না, যে কোন ফর্মেই তারা সদা উপাদেয়। অবশ্য পাঁঠার মাংসের যা দাম হয়েছে আজকাল, মাসে একবারের বেশী ম্যানেজ করা মুস্কিল। গান গাওয়াটা অবশ্য ফ্রী।
  
সেদিন অলির কথা শুনে বকুল হাসে গানটার অন্তরার একটা বাঁকে এসে চোখে জল এসে গেছিলো অনন্তবাবুর।  “আকাশ পারে ওই অনেক দূরে”, এইখানটায় এসে গানের সুরের সে কী বাঁক নেওয়া। শিউরে উঠতে হয়।

**

-   অনন্ত, অ্যাই অনন্ত। হোয়াট আর ইউ থিঙ্কিং? অমন ভ্যাবলার মত বসে কী ভাবছিস। হারি আপ, মিটিং শুরু হল বলে।
-মিটিং?
-ওই। কী রে। পাঁচ কোটির ডীল সামনে আর তুই অমন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে বসে আছিস? ক্যুইক। ল্যাপটপটা বগল দাবা করে চল। টাইম নেই।
-ও।
- ও মানে? কী রে। জেগে স্বপ্ন দেখছিস নাকি?
-এক রকম তাই। স্বপ্নই দেখছিলাম।
-স্বপ্নে কী দেখলি? ডিল ক্র্যাক্‌ড? গুপ্তা আমাদের প্রপোজালে রাজী হয়ে গেছে? হাই ফাইভ?
-স্বপ্নে দেখলাম আমি গান গাইছি।
-হোয়াট?
-গান গাইছি। এসো এসো আমার ঘরে এসো। স্বপ্নে গুপ্তা বা পাঁচ কোটি ছিল না।  মুড়ি বেগুনী আর লুঙ্গী ছিল।সে অনন্ত আনন্দের ব্যাপারস্যাপার সমস্ত।

No comments:

দাদার লাইব্রেরি

- দাদা। - কী ব্যাপার পিলু? এত রাত্রে? - মনে হল তুই হয়ত এখনও ঘুমোসনি। তাই ভাবলাম যাই একবার...। - আয়। বস। - কী পড়ছিস? -  ইংরেজি নভ...