Monday, November 1, 2021

পিলুর দাদা



- কী রে পিলু৷ ঘুমোসনি?

- নাহ্ রে দাদা৷ ঘুমটা ঠিক..ঠিক জুতসই ভাবে আসছে না।

- ঘাপটি মেরে পড়ে থেকে কী হবে বল৷ বরং উঠে টেবিল ল্যাম্পটা জ্বেলে বই পড়৷ তাক ভর্তি তো না পড়া বই৷

- সত্যিই৷ কত যে না পড়া আর আধপড়া বই। তবে কাল অফিস তো, তাই বেশি দেরী করে ঘুমোলে..।

- শুয়ে থেকেও ঘুমোতে পারছিস কি আদৌ? বরং খামোখা আরও টেন্স হয়ে পড়ছিস। একটু অন্যদিকে মন দিলে ঘুমটা আসবে বরং। বই না পড়িস, গান শোন। নিদেন পক্ষে পায়চারি কর খানিকক্ষণ৷ 

- নাহ্, গান বা হাঁটাহাঁটির চেয়ে বরং বইই ভালো৷ একটা চমৎকার বই পড়ছি, জানিস দাদা৷ শেষের দিকে আছি৷ 

- কোন বই রে পিলু?

- টারা ওয়েস্টওভারের আত্মজীবনী,  এডুকেটেড৷ বেশ ইন্সপ্যায়ারিং৷ আর কয়েক পাতাই বাকি আছে৷ সে'টাই বরং শেষ করি গিয়ে৷ 

- সেই ভালো৷ ঘুম নিয়ে যত টেন্স হবি, ঘুম তত কাঁচকলা দেখিয়ে দূরে সরবে৷ তার চেয়ে এই ভালো।

- নাহ্। বিছানায় শুয়ে ছটফট করার চেয়ে এই ভালো৷ 

- তবে! বললাম তো৷ 

- তা হ্যাঁ রে দাদা, তুই এই অসময়ে এ'খানে যে?

- ভেবে দেখ দেখি৷ আমি কেন এসেছি। 

- এক মিনিট৷ সত্যিই তো! তুই কেন এসেছিস? দাদা?

- কেন এসেছি? তোর টানেই যে ভাই৷ 

- দাদা, তোকে আমি দেখতে পারছি কেন? তোকে তো আমার দেখতে পাওয়ার কথা নয়৷

- এ'বার থেকে দেখতে পারবি৷ আর তো আমাদের কোনও তফাৎ রইল না৷ তাই ঝুপ করে এসে পড়লাম৷ আমি জানতাম একটা বই মাত্র কয়েক পাতাই পড়া বাকি আছে তোর৷ পিলু, ঘটনাটা সদ্যই ঘটেছে৷ পেজমার্ক দেওয়া বই শেষ করার সুযোগ পাওয়া যায় রে, আমি জানি। এ'বার চট করে বইটা শেষ করে ফেল৷ ততক্ষণ আমি অপেক্ষা করছি না হয়৷ তারপর দুই ভাই মিলে সরে পড়ব'খন৷ 

ওয়েস্টওভারের বইটা যখন খুলে বসল পিলু, তখন খাটে শুয়ে থাকা নিজের শরীরটার দিকে তাকিয়ে শিরশিরে একটা ভূতের ভয় অনুভব করতে পারল যেন৷ আর ব্যাপারটার বিটকেলপনায় নিজেই ফিক করে হেসে ফেলল সে।

No comments:

পুরনো লেখা