Sunday, December 30, 2018

কলকাতা আর উলের বোঝা


ক্যালেন্ডারের দিকে আনমনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তিন প্যাকেট সল্টেড বাদাম খেয়ে ফেললেন শুভময় সাহা।
নভেম্বরের শেষ দিন আগামীকাল, পরশু থেকে ডিসেম্বর। অথচ গায়ে স্রেফ একখানা স্যান্ডোগেঞ্জি চাপিয়ে সন্ধে থেকে বসে। ক্যালেন্ডারের মাকালী যেন জিভ বের করে মস্করা করছেন; "আরো কেন ব্যাটা গলা বন্ধকরা ঢাউস সোয়েটার"।
প্রতি বছর এ'দিনটায় শীতের পোশাকের ট্রাঙ্কটা নামিয়ে আনেন শুভময়। শীতের পোশাকগুলো উল্টেপাল্টে দেখেন; পাশে থাকে বৌ৷
"মনে পড়ে এ'টা সে'বার গ্যাংটক যাওয়ার আগে কিনেছিলাম? নিউমার্কেট থেকে? কী সস্তায় পেয়েছিলাম এই হাই কোয়ালিটির সোয়েটার। পাঁচ বছরেও রঙ একটুও এ'দিক ও'দিক হয়নি"।
হবে কী করে? সেই পাঁঁচ বছর আগে শেষ এ সোয়েটার গায়ে দেওয়া হয়েছিল গ্যাংটকে। তারপর থেকে প্রতি বছর শুধু ট্রাঙ্ক থেকে বের করে রোদে দেওয়া আর ন্যাপথালিন পালটে ফের ট্রাঙ্কে চালান করা। শুভময় বুকের ভিতরে হুহু টের পান।
" এই মাফলারটা মেজপিসি এনে দিয়েছিল থিম্পু থেকে। জব্বর জিনিস"। শুভময় জানেন সে জব্বরের বহর, আড়াই বছর আগে কাটোয়ায় এক বন্ধুর বিয়েতে বরযাত্রি যাওয়ার সময় শেষ ব্যবহার করেছিলান। কলকাতায় মিনিবাসের ভিড়েই কাজ চলে যায়, এমন জব্বর ভুটানী মাফলারের দরকার তেমন হয়না।
"বুবলুর পুলওভারগুলো ছোট হয়ে গেছে। আসছে রোববার, একটা নতুন কিনব। কেমন"?
নতুন আসে। ট্রাঙ্কে ঢোকে। বুবলু তরতরিয়ে বেড়ে চলে আর হাফসোয়েটার পরে স্কুল যাতায়াত করে; তাও বছরে সাড়ে তিন হপ্তা। ও'দিকে ট্রাঙ্কের আড়ালে আর ন্যাপথালিনের স্নেহগন্ধে সে পুলওভার ছোট হয়ে আসে; আপনা থেকেই বাতিল হয় পড়ে। ফের নতুন কেনা হয়। গলা শুকিয়ে আসে শুভময়ের, নিজের অজান্তেই খামচে ধরেন ন্যাপথালিনের নতুন প্যাকেটটা।
একে একে বেরিয়ে আসে বিয়ের শাল, ডিসকাউন্টে কেনা জ্যাকেট, শৌখিন উলের মোজা, চামড়ার তৈরি গাবদা দস্তানা। শুধু কলকাতায় শীত আসে না।
যে'ভাবে বইয়ের তাক ফাঁকা আছে বলে কালচার-প্রিয় মানুষ বই কেনে, যে'ভাবে দাড়ি কামানোর ব্লেড নেই বলে কেউ কেউ কফি হাউসে যায়, যে'ভাবে বাড়িতে বাড়তি রসুন পড়ে আছে বলে কেউ কেউ ব্যাগ হাতে মাংসের দোকানের দিকে ছুটে যান; ঠিক তেমন ভাবেই;
এক ট্রাঙ্ক শীতের পোশাকের দায়ভার কাটাতেই; মাঝেমধ্যে কলকাতা টু হিলস্টেশনের টিকিট কেটে ফেলেন শুভময়। ভ্রমণের নেশাটেশা বুর্জোয়া ব্যাপার। নাথুলা পেলিং যেতে হয় নেহাত বাধ্য হয়ে; কারণ ট্রাঙ্কে রাখা সোয়েটারের ওজন হৃদয় বইতে পারে না।

No comments:

টাক আর কলপ

- এই যে। - উঁ। - আরে ও মশাই। - কী..কী? - চোখটা খুলুন না একবার। আরে ও মশাই। আর কত ঘুমোবেন।  - কে? কে? এই! কে রে ব্যাটা তুই?  -আমি...