Thursday, June 17, 2021

লোক পোক



স্বপ্নের সিকুয়েন্স।

মেসবাড়ি। যেমন হয় আর কী। সাতপুরনো, জীর্ণ। তবে জমজমাট। 

দেওয়ালে ঝোলানো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ মনের সুখে দাড়িতে কলপ লাগাচ্ছেন। আর গুনগুন করছেন; "রিমঝিম গিরে সাওয়ান"।

পাশের চৌকিতে আধোশোয়া শিব্রাম সেই সুরের তালে ঠ্যাং নাচাচ্ছেন আর চোখ বুজে মনের মধ্যে ফাউল কাটলেটের ছবি আঁকছেন।

ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে ঘনশ্যাম দাস একটা ভারিক্কি  ডায়েরি উল্টেপাল্টে দেখে বলছেন, "এ'সব ছাইপাঁশ পাবলিশ করার তাল করছেন নাকি রবিদা"?

শিব্রামের উল্টোদিকের চৌকিতে ম্যাদা মেরে বসে আছেন এক গোবেচারা ভদ্রলোক। মুখে একরাশ বিরক্তি। 

ঘনশ্যাম দাসের প্রশ্নের উত্তর এলো না।
রবীন্দ্রনাথের গুনগুন থামল না।
শিব্রামে ততক্ষণে কাটলেট ছেড়ে রাবড়িতে গিয়ে ঠেকেছেন, ঠ্যাং নাচানো অবশ্য থামেনি।
এর পাশাপাশি  মান্ধাতা আমলের সিলিং ফ্যানের ক্যাঁচক্যাঁচর। 

সে গোবেচারা মানুষটি এ'বার হুঠ করে উঠে দাঁড়ালেন। আচমকা চেঁচিয়ে বলে উঠলেন;
"তোমাদের মত ইরেস্পন্সিবল ইয়ারদোস্ত আমি আর দেখিনি। আমি এত বড় একটা কনসার্ন শেয়ার করলাম অথচ কারুর কোনও হেলদোল নেই। এর চেয়ে ফুটপাতে শুয়ে থাকলে বরং বেশি লোকের দরদ পাওয়া যেত"।

ঘনশ্যাম দাসের ডায়েরি থেকে মুখ তুলে চাইলেন।
রবীন্দ্রনাথের গুনগুন থামল।
শিব্রামে ততক্ষণে রাবড়ি ছেড়ে  রুই কালিয়ায় পৌঁছেছেন, ঠ্যাং নাচানোও থামেনি। 

"বলি আমার প্রব্লেমটা নিয়ে কেউ কি কিছুই বলবে না"?, গোবেচারা ভদ্রলোকের মধ্যে আচমকা একটা খেপচুরিয়াস ভাব।

ঘনশ্যামবাবু এ'বার ভুরু কুঁচকে বললেন, "এমন ডিলেমায় পড়েছিলাম সে'বার ভ্ল্যাডিভস্টকে"।

"এই আবার শুরু হল", চুপসে যাওয়া বেলুনের মত ধপাস করে চৌকিতে বসে পড়লেন গোবেচারাটি, "আমার কী করা উচিৎ সে ব্যাপারে কেউ কি কিছুই বলবে না"?

ঘন কালো দাড়ির আড়াল থেকে রবীন্দ্রনাথ বলে উঠলেন, "তুমি ফিরে যাও মুকুল"। 

"বলছেন ফিরব"? গোবেচারা মানুষটি যেন বুকে বল পেলেন, " লোকে আবার ট্রোল-ঠ্রোল করবে না তো"?

"লোক না পোক", শিব্রামের ঠ্যাং নাচানো ততক্ষণে থেমেছে, " আখের শুনেছি আখের রসের মতই সুমিষ্ট৷ তুমি ফেরো মুকুল। আমি অভয় দিচ্ছি। ফেরো, আর ফেরার পথে দু'ঠোঙা চপ নিয়ে ফিরো"।



No comments:

পুরনো লেখা