Thursday, March 25, 2021

মনখারাপিস্ট বনাম মামলেটিয়ে


মনখারাপ জমাট বাঁধলে সে এসে পিঠে হাত রেখে বলবে, "যত্ন করে জোড়া ডিমের মামলেট ভেজেছি ভাই৷ এসো, ব্যালকনিতে বসে খাবে"।

আমি মুখভার করে বলব "এই অসময়ে আবার মামলেটের কী দরকার"!

সে বলবে, "অসময়েই তো আমরা গীতবিতান হাতড়ে মরি৷ অসময়েই তো আমরা বাউল শুনে আঁকুপাঁকু করি৷ অসময়েই তো মনের শ্যামল মিত্র ভ্যাক্সিনের প্রয়োজন হয় ভায়া৷ সুসময়ে তো নিউজচ্যানেলকেও রাগসঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করা যায়৷ এই ডিমভাজা তো সুসময়ের অমলেট নয়, বরং দুঃসময়ের মামলেট৷ তোমার জন্য সময়টা গোলমেলে বলেই তো এমন যত্ন করে ফার্স্টক্লাস ডিম ভেজে আনলাম"৷

গড়িমসি করে মামলেটের প্লেটখানা হাতে নিয়ে ব্যালকনির দিকে এগিয়ে যাব৷ মোড়ায় বসে ইতিউতি চামচ চালিয়ে মামলেটে কাটাকুটি শুরু করব।

মুখে দু'এক টুকরো ডিমভাজা পড়তেই গায়েমুখে মিঠে হাওয়া এসে ঠেকবে৷ তখন সে শুধোবে, " কী ভায়া, কেমন"?

আমি তৃপ্তি চেপেচুপে রেখে দায়সারাভাবে মাথা নাড়ব৷ 

সে বলবে, "এ'বার একটু বিভূতিভূষণ রিসাইট করব"।

আমি মৃদুকণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়ে বলব, "তার আবার কী দরকার"!

সে বলবে, " ভায়া, কলকাতায় বইমেলার কী দরকার? মহাভারতে কেষ্টরই বা কী দরকার ছিল? এ'সব প্রশ্ন করতে নেই হে৷ করতে নেই৷ বিভূতিভূষণের আবার দরকার-অদরকার কী৷ সাপ্লাই যত বাড়বে, মার্জিনাল ইউটিলিটি তত লাফিয়ে লাফিয়ে ওপরের দিকে যাবে৷ 

তারপর ক্রমশ টের পাব যে মামলেটে-বিভূতিভূষণে মন তরতাজা হয়ে উঠছে৷ মনের ঘোলাটে ভাব কেটে যাচ্ছে৷ বুকের মধ্যে দিব্যি হাতেগরম ভালোলাগা তৈরি হচ্ছে৷ 

দু'চার পাতা আরণ্যক পড়ার পর সে কাছে এসে বলবে, "মন কেমন এখন ভায়া"? ততক্ষণে আমার মুখে দিব্যি আলো-আলো হাসি - মান-অভিমান গায়েব, খিটখিট ভ্যানিশ। 

সে বলবে, "এ'বার তা'হলে আসি ভাই? পরেরবার তোমার মনখারাপের ঘুমের স্বপ্নে এসে লুচি-আলুভাজা খাইয়ে যাব৷ আর বিভূতিভূষণের বদলে পূর্ণেন্দু পত্রী৷ কেমন"?

সেই আশ্বাস দিয়ে, স্বপ্নের সেই  অমায়িক ডিম-ভাজিয়ে আমিটি কেটে পড়বে৷  মনখারাপ-কেটে বেরিয়ে আসা যে আমি পড়ে থাকব, তার মনের মধ্যে "মন্দ কী আর৷ ভেসে যাইনি তো এখনও"-মার্কা সুবাতাস।  

No comments:

ওই মেজদাদা

- এই যে, চাঁদু৷ ইদিকে এসো দেখি মাল৷  - আমায় ডাকছেন?  - ওরে আমার নেকুচাঁদ হুশিয়ার রে৷ রাস্তায় এখন আর আছেটা কে। আয় দেখি ইদিকে।  - ...