Thursday, November 13, 2014

বন্ধু


-   খোকা, এদিকে এসো। এসো।
-   তুমি কে?
-   আমি? মিতুলদাদু।
-   কে মিতুলদাদু?
-   তোমার বন্ধু মিতুলদাদু।
-   আমার তিনজন বন্ধু। রাজা। অপু। ফুটু।
-   আমি চার নম্বর তাহলে।
-   তুমি তো অনেক বড়। তোমার চুল সব সাদা। আমি ক্লাস টু’তে পড়ি।
-   বড় হলে কি বন্ধু হওয়া যায়না খোকা?
-   যায়?
-   খুব যায়।
-   তুমি কি ছেলেধরা?
-   সে কী। আমি ছেলেধরা হতে যাব কেন খোকা?
-   মা বলে। রাস্তায় অচেনা কারোর সঙ্গে কথা না বলতে। রাস্তায় ছেলেধরা থাকে।
-   তুমি ছেলেধরাদের ভয় পাও?
-   আমি কোনদিন ছেলেধরা দেখিনি। তুমি কি ছেলেধরা?
-   তুমি একটা ছেলে। আমি তোমার হাতটা এই ধরলাম। তাহলে আমি ছেলেধরাই বটে।
-   আমি এই প্রথম ছেলেধরা দেখলাম।
-   তোমার ভয় করছে না?
-   ছেলেধরারা কী খারাপ ?
-   খারাপ না? তারা ছেলেদের ধরে যে...
-   হাত ধরলে ঠিক আছে। গাল না টিপলেই হল।
-   তোমার গাল টিপলে তোমার খুব রাগ হয় বুঝি ?
-   খুব।
-   তোমার নাম কী খোকা?
-   আমার স্কুলের নাম অনিকেত রায়।
-   আর বাড়ির নাম?
-   টুবলু।
-   তোমার বাবা মা কোথায় টুবলু? তুমি ক্যাফেটেরিয়াতে একা বসে কেন?
-   বাবা অফিসে। মা ওই পার্লারে আছে। ওই যে। সামনের। ওইটা।
-   তোমার বাবা কেমন আছে টুবলু?
-   তুমি আমার বাবাকে চেন?
-   চিনি বইকি।
-   তুমি কী আমার বাবারও বন্ধু?
-   কিছুটা। তা টুবলুবাবু, তোমার হাতে কী ওটা? মোবাইল ফোন?
-   হ্যাঁ। এটা আমি যখন যখন একা থাকি তখন তখন আমার কাছে থাকে। আমি চাইলেই বাবা বা মাকে কল করতে পারি।
-   তাই নাকি ? একবারটি তোমার বাবাকে কল করবে খোকা?
-   তুমি কথা বলবে?
-   হ্যাঁ গো টুবলুবাবু। তোমার বাবা খুশি হবে। কল কর কল কর।

**
-   হ্যালো, আপনি কে বলুন তো টুবলুর সাথে কথা বলছেন ? আর ওকে দিয়ে আমায় ফোনই বা কেন করাচ্ছেন?
-   বাবা অর্ধেন্দু, আমায় চিনতে পারছ না?
-   কই না তো।
-   আমি তোমার মিতুলকাকু!
-   কী যাতা ঠাট্টা এটা।
-   রাগ করো না বাবা। তুমি আমার ছেলের প্রাণের বন্ধু। তুমি একটু দীপুকে বুঝিয়ে বল না...
-   এটা নোংরা ঠাট্টা হচ্ছে...আ...আপনি এখুনি দূরে চলে জান...ফোন ফেরত দিন টুবলুকে...
-   ছিঃ বাবা...আমি তোমার মিতুলকাকু...আমি গুরুজন...
-   কে আপনি...কে...কে...কে...কেন এমন করছেন...টুবলুকে ফোন দিন...
-   তুমি এত ভয় পাচ্ছ কেন বাবা অর্ধেন্দু। টুবলুতো আমার নিজের নাতির মতই। ভাবলাম ওর মাধ্যমে তোমার সাথে কথা হয়ে জাবে...ও ছেলেমানুষ...ওর সামনে যখন তখন আসতে তো ক্ষতি নেই...
-   কে...কে...কে...
-   শান্ত হও অর্ধেন্দু। শান্ত হও। তুমি আমার ছেলের বন্ধু, আমার পুত্র সম। তুমিও কি আমার ছেলের মতই ভাব আমি কোন ক্ষতি করতে পারি আমার স্নেহের মানুষদের?
-   আ...আ...আ...আমার ছেলের কোন...
-   ছিঃ, কেন আমি ক্ষতি করবো ? আমার ছেলেরও খালি একই ভয়, আমি ক্ষতি করে দেব। তুমি ওকে প্লিজ বুঝিয়ে বলবে অর্ধেন্দু, ও যেন আমার নামে গিয়ে গয়াতে পিণ্ডদান না করে আসে! তাহলে যে আমি আর থাকতে পারবো না এভাবে। এখন তাও মাঝেসাঝে নিজের বাড়িঘর, ছেলেমেয়েগুলোকে দেখে আসি...ছেলেটার স্বপ্নে ঢুকে গিয়েই গণ্ডগোল হল যত...প্লিজ একটু আমার ছেলেকে বুঝিয়ে বল না...ও যাতে পিণ্ড না দিয়ে আসে। আমি থাকতে চাই আশেপাশে। আমি কারুর কোন ক্ষতি করবো না। বিশ্বাস কর।  প্লিজ...ওকে বল যে ওর বাপ আরেকবার মরতে চায় না...প্লিজ...

1 comment:

Sinjini Sengupta said...

আপনি এখুনি দূরে চলে জান :-(