Sunday, December 30, 2012

খালাসীটোলা কী ভাবে মুছে যাবে

এদিকে
অনলাইন-সোস্যাল-বাজারি পরিবেশে, জনৈকার সাথে জনৈকয়ের অচানক আলাপআপনি-সম্বোধন ঝনাত করে সম-বয়স্কতা ও সম-মনস্কতা আবিষ্কার করে এবং  তুইতে নেমে আসা। ঈষত স্নেহ ও ডাকনাম বিনিময়। বন্ধু-সুলভ গদ্য কথা।

এমন সময় প্রশ্ন আসে পান-প্রীতির। বেবাক সাড়া দুজনেরই। দুটো সপাট খালাসিটোলা ভ্রমণের ইচ্ছে মুখোমুখি মিলিত হয়একে অপরের মন চাপড়ে নেয়। বাংলায় গান মেলে, চোলাই তালে।  

মন-ছন্দ মিলে দুজনে স্বীকার করে যে নেশা মদে নয়; সেবন-পরিবেশে লুকিয়ে রয়েছে। অতএব একে অপরকে আর একটু বুঝতে; চিনে নিতে হবে একে অপরের প্রিয় কোলকাতাইয়া-মাদক পরিবেশটিকে।
শুরু করলেন জনৈকা। নিজের প্রিয় মদ্য-ঠেকের লিস্টি;
সবেকিয়ানা-সিক্ত-ব্রডওয়ে হোটেল থেকে রুফ-টপ-রোম্যান্স-মাখা-ব্লু এন্ড বিয়ণ্ড থেকে সাহেবি-স্মার্ট-রুচি-রঞ্জিত-অলিপাব হয়ে অন্য মেজাজের সঙ্গীত-সহ নেশা ছড়ানো ট্রিন্কাস পর্যন্ত
; ছিমছাম ঝকঝকে পরিশীলিত সুর, প্রত্যয়ের রিমঝিম। 

মিষ্টি হাসিতে সাজানো জনৈকার লিষ্টিতে অভিভূত জনৈক স্মিত স্বরে জানালেন যে তিনি এ মদিরা-মন্দিরগুলির স্তুতি শুনেছেন, কিন্ত একটিতেও তার আজ পর্যন্ত পদার্পণ ঘটেনি।  
এ কেমন মদ্য-প্রীতি যুক্ত কলকাতার ভদ্র-বাবু, যিনি শহরের  এমন পান-তীর্থগুলিই ভ্রমণ করেন নি ? শিউরে উঠলেন জনৈকা।

বিবেকানন্দ-সুলভ আশ্বাস নিয়ে নিজের প্রিয় মদিরালয়ের আখ্যান মেলে ধরলেন জনৈক। নিজের অপত্য-মদ্য স্নেহ কে কেউ আড় চোখে দেখে চুকচুক করবে, এমনটা তো মেনে নেয়া যায় না। জনৈক মেলে ধরলেন মদ্য-অভিজ্ঞতা ডালি :
উত্তর কলকাতার সাবেকী বাড়ির চিলেকোঠায় মাঘের শীতে-রাত্রে; মাটির ভাঁড়ে রাম-চুমুক।
ছাতের ওপরের জলের ট্যাংকে মই বেয়ে বন্ধু সহ উঠে বিয়ার-অজ্ঞানতা-বরণ।
ফুটপাথিও-ল্যাম্পপোস্টের নিচে ইঁট পেতে বসে, কলকাতার মধ্য-রাত্রি ও এক অপরিচিত মুখ কে ভদকার প্লাস্টিক গেলাস হাতে চিনে নেওয়া; রাত জুড়ে।
 জনৈকা অপ্রতিভ হয়ে জানান দিলেন যে এই পান-অভিজ্ঞতা-সুখগুলি থেকে তিনিও বঞ্চিত।

জনৈক ও জনৈকা তখন অনলাইন যুক্তি-গুছোতে ব্যস্ত; কী ভাবে একে অপরের মদ্য-পরিবেশজনিত  অভিজ্ঞতার অভাবগুলি যৌথ-কার্যক্রমের মধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া যায়। ঠিক হলো যে তার দুজনে সুনীল-শক্তি সুড়সুড়ি সম্বলিত খালাসীটোলায় দেখা করবেন এবং একে অপরের অভিজ্ঞতা বিকাশের স্বার্থে যথাযত প্ল্যান হাঁকবেন।

ওদিকে
ব্রহ্মা দেখিলেন ইহা এক মহাফাঁপর। দুই মাতাল যৌথ ভাবে জ্ঞান-অন্বেষণে বাহির হইলে মর্ত্তলোক নিশ্চিত ধ্বংস পাইবেদুই মাতালের মিলিত ও সুব্যবহারে শাণিত জ্ঞান-শক্তি;  নারায়ণ ও মহাদেবের যৌথ শক্তি হইতেও তীব্র- এমন সত্যটি ব্রহ্মা বিলক্ষণ জানিতেন কিন্তু এই মর্মান্তিক সত্যটি তিনি বেদ বা অন্য কোনও শ্লোক মাধ্যমে উহার উল্লেখ করেন নাই; পাছে মাতালরা তাহা জানিয়া প্রতি নিয়ত উত্‍পাত করিয়া বেড়ায়। যখনই কোনও দুইটি মাতাল জ্ঞান-অন্বেষণের স্বার্থে জোট বাঁধিতেন, ব্রহ্মা আগ বাড়াইয়া কোনওভাবে তাহাদের জোটে ব্যাঘাত ঘটাইতেন।

জনৈক-জনৈকার জ্ঞান-বিনিময় অভিসারে বিঘ্ন ঘটাইতে তথা মর্ত্তলোককে এ যাত্রা বাঁচাইয়া দিতে ব্রহ্মা ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করিয়া খালাসীতোলার বাংলা মদের আসরটি জ্বালাইয়া খাক করিয়া দিলেন। কিছু মানুষে ভাবিলো আপদ চুকিলো কেউ বা এই ভাবিয়া অস্থির হইলো যে; দ্যাখো সরকারের তরফ হইতে যথেষ্ট দেখভালের অভাবে এমন পবিত্র পিঠস্থানটি শর্ট-সার্কিটের আগুনে বিনষ্ট হইলো ; তাহারা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করিয়া রাজ্য মাথায় করিলো 

খালাসি-বিযোগে জনৈক ও জনৈকা এমন ভাঙ্গিয়া পড়িলেন যে তাহারা প্রতিজ্ঞা করিলেন যে কখনোই আর একে অপরের সহিত দেখা করিবেন না

ব্রহ্মা হাঁপ ছাড়িয়া, ঘাম মুছিয়া;  মিচকি হাসিলেন।     

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...