Saturday, February 3, 2018

এ'দিকে আর ও'দিকে

- গুরুদেব। 

- কিছু বলবে ভাই?

- শুধব। 

- নিশ্চয়ই। প্রশ্ন আছে, তাই তো মন সতেজ। যে মনে প্রশ্ন নেই, সে মন তো পান-খেকো দাঁতের গায়ের লালচে ছোপ মাত্র। 

- যেয়াজ্ঞে। তাহলে শুধোই? গুরুদেব?

- ভয় কীসে? শুধোও। প্রশ্ন সুধা এ বুকে সঞ্চারিত না হলে আমি জ্ঞানের অ্যালুমিনিয়াম বাটি তোমার সামনে উপুড় করে দেব কী করে?

- বলছিলাম যে গুরুদেব...আপনার চ্যালাগিরি করে তো কম ঘুরলাম না। হিমালয়ে তপস্যা, অস্ট্রিয়ায় ব্যালাড শোনা, মোজাম্বিকে চ্যারিটি ক্যাম্প, সাউথ পোলে পেঙ্গুইন সেবা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কলকাতা গেলাম না যে। 

- দুর্জনে বলে আমি নাকি কলকাতার বড় ব্যবসায়ী বিনোদ দত্তকে ঠকিয়ে টু পাইস কামিয়েছিলাম। যৌবনে। আর তারপর নাকি আমি পুলিশের ভয়ে সন্ন্যাসী সেজে কলকাতা ছেড়েছি। কী সব বিশ্রী গুজব। 

- লোক না পোক গুরুদেব। এরা পারলে বিরিয়ানির থালা ফেলে দু'টো লঙ্কা ডলে গসিপ চিবিয়ে খাবে।  তা আপনি কি গুজবের ভয় কলকাতা যান না গুরুদেব? 

- ইহলোক পরলোকে পায়চারী করে বেড়াই কি কলকাতার বিনোদ দত্তকে ডরাব বলে ভাই? আর তাছাড়া কলকাতার পুলিশের ওপর মহলের অনেকে আমার ভক্ত। আমি পঞ্জিকা দেখে দিন বাতলে দিলে তবে তারা রেড বা এনকাউন্টার করে। আমার আবার ভয় কীসের? আমি কলকাতা যাইনা অন্য একটা কারণে। 

- পুরনো লাভ লাইফ গুরুদেব? সন্ন্যাস টলে যাবে? 

- ধ্যুত। নারী। আর আমি? কলেজ লাইফে বাহাত্তর নম্বর চিঠি জলে যাওয়ার পরেই বুঝে গেছিলাম, আমি ও'সব পাতি ব্যাপারের অনেক ওপরে।

- তবে? গুরুদেব? 

- মোক্ষলাভের স্পেকট্রামে একদিকে হিমালয়। বহুদিন আগেই যে বাধ্য হয়ে আমি সেই  পথ বেছে নিয়েছি ভাই। ইজি মোক্ষলাভ। হিমালয়ে খালি গায়ে বছর দুই তপস্যা করলেই মা অন্নপূর্ণা নিজে বোনচায়নার বাটিতে করে পায়েস নিয়ে আসবেন, সে বাটিতে আবার স্টিলের চামচে। মোক্ষলাভ স্পেকট্রামের অন্য জটিল দিক পড়ে রয়েছে কলকাতায়। হন্যে হয়ে চেষ্টা করেছিলাম। বহু বছর ব্যর্থ হয়ে তবেই হিমালয়ের জন্য কৌপীন অ্যাডপ্ট করে বেরিয়ে পড়েছি। এখন কলকাতায় ফিরলে সেই না পাওয়ার দুঃখ উথলে উঠবে যে। 

- কলকাতায় মোক্ষলাভ? সে'টা কী ভাবে হয়?  

- অফিসটাইমে ভিড় বাসে উঠে মার্ফিদেবকে অবিরাম ডেকে চলা, হে ভগবান, আমার সামনের জানালার সীটটা ফাঁকা করিয়ে দাও। সে তপস্যায় খোদ হিমালয়ও অল্প গলে গিয়ে কিছুদিনের জন্য রাজারহাটের ইকোপার্কে ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু আমার সামনের জানালার সীট বহু বছরের তপস্যাতেও একবারও খালি হয়নি। মাদুলি পর্যন্ত নিয়েছিলাম। যা হোক।  সে ব্যর্থ তপস্যার ব্যথা ফের ফিরে আসবে কলকাতা গেলে। কাজেই আমাদের পরের গন্তব্য ভোপাল। সে'খানের কোনও রইস ব্যবসায়ীর মনে আবার ভক্তি জেগেছে। যাই..। ঘুরে আসি। 

- জ্ঞানে ভরা অ্যালুমিনিয়ামের বাটি সে বান্দার সামনে উপুড় করবেন, তাই তো?

- শিষ্য হিসেবে কিন্তু তোমার এলেম আছে ভায়া। তোমার হবে । 

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...