Thursday, April 30, 2015

বন্‌ধের ব্যাপারে দু'টো কথা

বন্‌ধ ব্যাপারটা নিয়ে দু’টো কথা আছে।

১। বন্‌ধ খারাপ।
২। বন্‌ধ ভালো।

ওই এক নম্বরে যেটা বললাম, সেটা স্পষ্ট। এ যুগে বন্‌ধ ততটাই উপযুক্ত পলিটিকাল হাতিয়ার; যতটা বুধবারের চিত্রহার বা একটা ক্যাসেটে বারোটা গান বা ইনল্যান্ড লেটার। তবে ভেজা গাব্বা পিচে ইনকিলাবি স্কুপ শট খেলতে রাজনৈতিক দাদা-দিদিরা অতীব পটু; তারা জানেন যে ভোটে বিদ্রোহী আই-পি-এলো মেজাজটা ছড়িয়ে দিতে পারলেই পাবলিক খাবে। ওসব উন্নয়ন-টুন্নয়ন লম্বা ইনিংসের খেললে জুটবে কাঁচকলা; টেস্ট ম্যাচে আজকাল সকলের সুপরিকল্পিত অরুচি। কাজেই তারা বন্‌ধ রাখবেনই, আর আমরা ছুটি হ্যাংলারা ডাইভ দিয়ে ল্যাদ লুফে নেবই। ওটাই আমাদের ধর্ম- বাঙালি ধর্ম। হুজুগ হল ঈশ্বর, ড্যাং ড্যাং হল নৃত্য পুজো। কিন্তু এসব করে আর ক’দিন? বুড়ো বাঙালি বাপ-মায়েরা বোধ হয় চিরকালই ফ্রি ওয়াইফাইতে বাঙ্গালরে চেন্নাইতে দিল্লীতে বম্বেতে বসে থাকা চাকুরীরত ছেলেমেয়েদের সাথে স্কাই চ্যাট করে যাবন।

এইবারে। ইয়ে। এক নম্বরের ব্যাপারটা রইলো। ঠিক আছে। সত্য কথা। উন্নয়ন আদ্দির পাঞ্জাবীর মতই জরুরী। তবে কী না...বন্‌ধ থাকবে না? বাঙালি স্রেফ জিডিপি জিডিপি করে শেষ হয়ে যাবে? হুজুগ ফুর্তি হঠাৎ তুর্কি জীবন থাকবে না? গপাগপ পয়সা কামিয়ে বাঙালি পাতি অক্কা পাবে? তাই কী হয়। আমরা সর্বহারার দল, আমরা প্রতিবাদী পাবলিক, আমরা হঠাৎ ছুটিতে বিশ্বাসী। আমাদের বন্‌ধটুকু অন্তত থাক।

এক আর দুই পাশাপাশি থাকে কী করে?
থাকবে।

বন্‌ধ খারাপ কেন? রাজনীতির কাদা মাখা বলে। গাজোয়ারির আখড়া বলে। যে বন্‌ধ নেতা নেত্রীর গালে মুনাফা চুমু, সেই বন্‌ধই পাবলিকের আখেরের পিছনে কষিয়ে লাথি; তাই বন্‌ধ গোলমেলে।  
বন্‌ধ ভালো কেন? হঠাৎ ছুটির আবেশ। কে দেবে? বন্‌ধ ছাড়া আমাদের হঠাৎ ছুটির স্নেহ কে এনে দেব?

এবারে।
সলিউশন।
নেতারা বন্‌ধ থেকে দূরে থাকুন। প্রতিবাদ হোক, তবে নতুন দিগন্ত কিছু আবিষ্কার হোক। জিন্‌সের যুগে বাঘ ছাল লুঙ্গির কোন মানে হয় না।
কিন্তু তাহলে বন্‌ধের কী হবে? বছরে দু’পিস বন্‌ধ না হলে বাঙালির কী হবে? যে কোন ছুটি হলে হবে না। ছুটি আর বন্‌ধ এক নয়, ঠিক যেমন এক নয় ফুলশয্যার কপিবুক ভালোবাসা আর আচমকা চিলেকোঠা।
তবে?

বন্‌ধ আসুক আলোর উৎসব হয়ে, হঠাৎ ছুটির দিন হয়ে। উগ্র হুঙ্কারে নয়। একটা পেল্লায় স্ক্রীনওলা কম্পিউটার; যেটা আসলে একটা র‍্যান্ডম বন্‌ধ-ডে-জেনারেটর। সেটা লাগানো থাকবে হাওড়া ব্রীজের মাথায়।  ফি বছর তিনশো তেষট্টি দিন স্ক্রীনটি আবছা কালো হয়ে থাকবে। শুধু বছরের দু’টি মহামূল্যবান সন্ধেবেলা ঝলমল করে উঠবে র‍্যান্ডম-বন্‌ধ-ডে-জেনারেটরের পেল্লায় স্ক্রিনটি; জানিয়ে দেবে “আগামীকাল বন্‌ধ, আনন্দ হোক”। যে কোন দু’টো দিন; অবশ্যই ছুটির দিন বাদে- প্রোগ্রামিংটা হবে তেমনই। সেই দু’দিন উল্লাসী আলস্যে ভেসে যাবে বঙ্গদেশ। (ইয়ে, বাস ট্রাম ট্রেন যেন চলে, ওষুধের দোকান আর হাসপাতালগুলো যেন খোলা থাকে)।

ব্যাস। সর্বহারার দল হাওড়া ব্রীজের মাথায় লাগানো সেই মনোরম স্ক্রীনটার দিকে তাকিয়ে জীবনের সমস্ত দুঃখ ভুলবে। স্ক্রিনটার ডাকনাম দেওয়া হবে – জীবনানন্দ। 

3 comments:

Anonymous said...

Chomotkar idea dada, kintu dada ekta golod roye gelo je ! Jibonananda k jwalabe je Generator, take chalabe ta ke ? .. jodi kono lok thik koren rajyo sarkar, sei lok o to bondher din chuti te thakbe .. :D !!

Ananda

Abhra said...

ফাটাফাটি একটা কনসেপ্ট দিয়েছিস বটে। সাবাশ!!!

veddy said...

শিলচরে সদরঘাট আর আগরতলায় কামান চৌমুহনি... হাই টেক যুগের বন্ধে পূর্ব বঙ্গিয় রা বাদ যাবেন কেন??

"দ্য লোল্যান্ড" প্রসঙ্গে

যিনি "দ্য লোল্যান্ড" রেকমেন্ড করেছিলেন তিনি এককথায় এ উপন্যাস সম্বন্ধে বলেছিলেন; "বিষাদসিন্ধু"। বিষাদসিন্ধুতে...