অন্য পারের রাখী

(ও পারের বোনটির প্রতি)

জ্যেঠু হামেশাই বলতেন স্নেহ সহজেই পাল্সচিনে নেয়। এক সহজিয়া বন্ধু-স্বর ট্যুইটারের কচ-কচানি চিরে মাঝে মাঝেই সাড়া দিতো।সাড়া দিতো বাংলার ওপার থেকে, অন্য বাংলা হতে।  আচমকা ভেসে এলো আদর মাখা স্নেহ-ডাক : দাদাভাই। মুখায়ব অচেনা, অপরিচিতা, তবু কল্পনা করে নিতে অসুবিধে হয় না বোনটির চোখের কোণে চিকচিকে ভালোবাসা।

আন্তর্জালিক সুতোয় জড়িয়ে থাকা রাখী ভেসে এলো। সীমান্তে যুদ্ধটার মত; এমণটাও তো হয়েই থাকে।

নিপাট ভাই-বহেন।

* * * 

দমদম এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বস ঢাকা থেকে ফিরছেন কিছু বেফালতু অফিসিও কাজ সেরে। ঢাকার ফ্লাইটে নেমে বস ফোন হাতে ব্যস্ত। আমি সংটি সেজে নন্দি সেজে দাঁড়িয়ে রয়েছি।রাখীর দিন। শ্যামবাজারে পিসতুতো দিদির বাড়িতে মোগলাই খানার নিমন্ত্রণ। বসের চক্করে এয়ারপোর্টে আটকা রয়েছি। মেজাজ প্রবল ভাবে চটকে।  এমন সময় ঝকঝকে একটি মেয়ে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কী তন্ময়
?”

অচেনা। সম্পূর্ণ। ভেবড়ে গিয়ে বললাম, “ইয়ে, হ্যাঁ, কিন্তু কেনো?

মেয়েটি মিষ্টি হেসে আমার পকেটে একটা ভাঁজ করা কাগজ ঠুসে দিলো। বললে, “এই কাগজটি আপনাকে একজন দিতে বললো”

চিরকুট? আমায়? এয়ারপোর্টে কে চিনলো? কেনই বা দিলো? স্মগলার বা টেররিষ্ট নয় তো? কে দিলো, কেন দিলো জিজ্ঞেস করবার আগেই বসএর হাঁক। বসের দিকে ফিরে ফরমাশ সামাল দিতেই সেই মেয়েটি হাওয়া। বসকে কোনও মতে বিদেয় করেই চিরকুটটা বার করলাম। ভাঁজ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে ভীষণ তড়ি-ঘড়ি করে লেখা। চিরকুটটা খুলতেই বৃষ্টি এলো প্রায়। ওতে লেখা:


“দাদাভাই,  

আমায় চিনতে পারলে না? আমি কিন্তু দূর থেকে দেখেই চিনতে পেরেছি। কয়েক ঘন্টার জন্যে ইন্ডিয়া এসেছি। একটু পরেই ঢাকায় ফিরে যাব। দ্যাখা হয়ে গ্যালো, তোমায় চমকে দিতেই এই চিরকুট। আজ রাখী না? তোমার জন্যে নিচের এই স্কেচ-টি। আর পরের বার দেখা হলে চিনে নিও কিন্তু”




ইতি, 

তোমার বোন

Comments

Popular Posts