Wednesday, March 21, 2012

পাঁচ সেকেন্ডের কোলকাতা

রাত দেড়টায় শেষ ট্রাম চলে যায় হ্যারিসন রোডের ওপর দিয়ে ঘর-ঘর করে। লাগোয়া গলির এই দোতলায় ছোট্ট ঘরটা প্রায় কেঁপে ওঠে শব্দে। বহু জীর্ণ মেস বাড়িটার তস্য-জীর্ণ কাঠের জানলা গুলো মুচরে ওঠে কচর কচর করে। ট্রামটা যেতেই পাশের বাড়ির মেনিটা ম্যাও করে উঠবেই। নীচে মূল-দরজার নিচে ঠ্যালা লাগিয়ে শুয়ে থাকে রামলোচনট্রাম যেতেই লহমার জন্যে তার ঘুম ভাঙ্গে, সে “সিয়ারাম” বলে পাড়াময় এক দ্বীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। চিলেকোঠার পায়রা গুলো খলবল করে ওঠে কয়েক মুহুর্তের জন্যে। চৌকিতে অল্প কাঁপুনি বুঝতে পারি
, ট্রামের গুঞ্জনের তালে, সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো টেবিলের নড়বড়ে পায়ার কনকন।  

এই কয়েক মুহুর্তের শব্দ-মেশালিতে আমার কলকাতা-যোগ। এই শব্দগুলো কে ঘিরেই আমার কলকাতাকে ভালোবাসা, স্নেহজেগে থাক কলকাতার আর অন্য কোনও ডাক আজও চিনতে পারি না। বুঝতেও পারি না। দৃশ্যতও আমি কোনও কলকাতা চিনি না।

তবে, আমি কবিতা বুঝি না, পড়িও না। শুধু ওই ট্রামের ডাকে আমি নিয়মিত ভূতের ভয় পাই। জীবনানন্দ কে আমি ভূত বলে চিনি।   

1 comment:

Aniruddha Sen said...

তোমার গদ্যের হাতটা খাসা, উদ্ভাবনী শক্তিও! চালিয়ে যাওI