Wednesday, February 16, 2022

মাল্টিটাস্কিং

মাল্টিটাস্কিং ব্যাপারটা ভারী অদ্ভুত৷ কাজ এগোয় না, শুধু মাল্টিটাস্কিংই চলতে থাকবে৷

সবার কম্পিউটারেই আজকাল বিরাশি সিক্কার র‍্যাম। কেন?
ব্রাউসারে বাহাত্তরখানা ট্যাব খোলা থাকবে,
সতেরোটা এক্সেল, বারোটা ওয়ার্ড ডুকুমেন্টে কাজ চলবে,
পাশাপাশি ইমেল চালাচালি৷
আর সবার ওপরে চলবে জুম মিটিংয়ের 'জী হজৌরি'।

এ'সব দিয়ে কী হবে? হবে মাল্টিটাস্কিং৷ এক কাজ নিয়ে পড়ে থাকা মানে আধুনিক কর্পোরেট জগতের বিরিয়ানিতে কুমরোর টুকরো হয়ে পড়ে থাকা।

বড়বস চাইবেন রিপোর্ট,
মেজোবস খুঁজবেন ইমেল,
সেজবস দেখবেন পাওয়ারপয়েন্ট,
ছোটবস ডাকবেন মিটিংয়ে,
আর আপনি? আপনার ইএমআই-য়ে ম্যারিনেট করা কপালে রয়েছে 'যে আজ্ঞে' আর মাল্টিটাস্কিং৷

দিনের অর্ধেকটা কেটে যায় এক্সেল থেকে জুমের মধ্যে দৃষ্টি চালাচালি করে,  ইমেল থেকে পাওয়ারপয়েন্টে ফোকাস জাগলিং করে, আর ফোনে খেজুর চালাতে চালাতে মেমো পড়ে৷ ওইটুকু পথ চলাতেই আনন্দ। শ্বাস ফেলতে না পারার মধ্যেই উত্তরণ সুপার এফিশিয়েন্ট কর্পোরেট সৈন্যদের। তারা লাঞ্চ সারবে কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ রেখে। তারা মুখ খুললেই বুলেট পয়েন্ট ছিটকে বেরোবে। তাদের টু-ডু লিস্ট সাইজে নভেলদের টেক্কা দেবে। তাদের ডেস্কটপের পাশেই জ্বলজ্বল করে মারকাটারি মোটিভেশনাল বই আর তার পাশেই ছড়িয়ে শতসহস্র স্টিকিনোট; 'ইয়ে করেঙ্গে', 'উয়ো করেঙ্গে' ইত্যাদি৷ 

এতসব করে কী বেরোয়?

অন্তঃসারশূন্য রিপোর্ট,
কেঠো গতে বাঁধা অ্যানালিসিস,
আর বাতেলা পাওয়ারপয়েন্ট।  
ও'দিকে "এক্সেলেন্স' শব্দটা বিভিন্ন অফিস পোস্টারে দোল-দোল-দুলুনি মোডে সেঁটে থাকে৷

কিন্তু কোন ব্যাপারটা সঠিক ভাবে চলতে থাকে?
মাল্টিটাস্কিং৷ 

কারুর "কী খবর ভাইটি" বলতে পারার সময় থাকা মানেই সে 'আন্ডারইউটিলাইজড'। কেউ তলিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছে মানেই সে পাশবালিস৷ 

যার কানে ল্যান্ডলাইন রিসিভার, এক হাত কীবোর্ডে, অন্য হাত মোবাইলে, আর চোখ কম্পিউটার স্ক্রিনে; সেই ঘ্যাম৷ বাকি সমস্তটাই ফাঁকি৷

No comments:

পুরনো লেখা