Wednesday, January 26, 2022

এম্পলয়ার



- প্রবীর? আয়, বস।

- সময় কম বড়দা। টাকাটা?

- ওই যে৷ টেবিলের ওপর। এনভেলপ।

- চললাম।

- গুনে দেখবি না?

- থাক।

- চারটেকেই কি গঙ্গায় ফেললি?

- বড়দা। কাজ হাসিল। নগদ হিসেব মিটিয়ে দিয়েছ৷ খেল খতম। হিসেব জেনে কী করবে৷

- কাল পরশু আবার কোথায় ভেসে উঠবে৷ পুলিশ খামোখা দৌড়ঝাঁপ শুরু করবে। তাই আর কী..।

- এদ্দিনে তোমার হয়ে অন্তত শ'তিনেক লাশ ফেললাম৷ তোমার দিকে কেউ আঙুল বাড়িয়েছে কি?

- আসলে কী জানিস, চারজনকেই সরাতে বলতাম না৷ কিন্তু ওই, বিজনেসে এমন গোলমাল পাকাতে শুরু করেছিল৷

- আমি মাইনে করা মানুষ৷ ও গল্পে আমার কাজ নেই৷

- প্রবীর।

- কিছু বলবে বড়দা?

- সিংঘানিয়ার পোষ্যরা কেউ তোকে দেখেনি তো?

- জিতু দেখেছিল।

- ওদের সেই ম্যানেজার? অবশ্য সে ব্যাটা নিজেও গুণ্ডা৷ কিন্তু সে যদি দেখে থাকে..। ঝামেলা পাকাবে না তো? ভালো করে শাসিয়ে এসেছিস তো?

- লাশকে শাসিয়ে কী হবে৷

- ওহ৷ ওকেও তুই...।

- দেখে ফেলেছিল৷ না দেখলে বেঁচেবর্তে থাকত৷ 

- তোর মাথাটা বড্ড গরম।

- জিতুর জন্য তোমায় তো বাড়তি টাকা দিতে বলিনি। কোল্যাটেরাল ড্যামেজ৷ 

- বলছি, বুলেটেই নামিয়েছিস তো সবকটাকে?

- বুলেটের যা দাম আজকাল৷ অবশ্য প্রসেসটা তোমার জেনেও কাজ নেই।

- তোর মেজাজটা দিনদিন বড় খটখটে হয়ে যাচ্ছে প্রবীর। আমি তোর এম্পলয়ার৷ ভুলে যাস না। 

- তুমি এম্পলয়ার৷ তা ঠিক৷ তবে আমি তো ক্লার্ক নই।

- লাশ কোথায় ফেলেছিস৷ সে'টা আমার জানা দরকার।

- এদ্দিন তো সে দরকার পড়েনি। 

- আজ পড়ছে৷

- থাক৷ আজ আসি।

- ও কী রে৷ এনভেলপটা রেখে যাচ্ছিস কোথায়।

- লাশের হিসেব যে দেবে, কাজ তাকেই দিও৷ টাকাটা রইল।

- উফ। তোর সব কথাতেই রাগ। নে, টাকাটা রাখ। ইয়ে, চা খাবি?

- আসি।

- চ', তোকে এগিয়ে দিই একটু।

***

- প্র..প্র..প্রবীর।

- বড়দা৷ বলো।

- আমি..আমি কোথায় বল দেখি..।

- বেশি ভেবে কী হবে বড়দা। থাক না।

- আমায় কোথায় এনেছিস?

- বড্ড বেশি ভাবছ।

- তুই..তুই সন্ধ্যেবেলা বাড়ি এলি, যাওয়ার সময় আমি তোকে এগিয়ে দিতে এলাম..। তারপর কিছু মনে পড়ছে না কেন?

- জিরিয়ে নাও বড়দা৷ 

- তুই আমায় কিডন্যাপ করেছিস? গুম করবি তুই আমায় রাস্কেল?

- আমি কিডন্যাপার নই৷ জানোই তো। 

- আমি নিজের বাড়িতে নেই কেন? এই ঘুপচি ঘরটায় আমায় এনেছিস কেন প্রবীর? তুই আমায় আটকে রাখবি? র‍্যানসম চাইবি? তুই এত বড় নিমকহারাম? 

- না বড়দা৷ খানিকক্ষণ পরেই ছেড়ে দেব। তোমার অনেক কাজ।

- হেঁয়ালি ছাড়৷ ব্যাপারটা ভালো হচ্ছে না৷

- এম্পলয়ারের মেজাজ বিগড়োচ্ছে নাকি?

- আমি তোকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি। কোন সাহসে আমায় ধরে এনেছিস রে তুই? কী ভেবেছিস, তুই কি আমার একমাত্র পোষা গুণ্ডা?

- না। তোমার তো রীতিমত নারায়ণী সেনা পোষা রয়েছে। আর সে জন্যেই তোমার মনে হচ্ছিল আমায় একটু শায়েস্তা করা দরকার৷ তাই না? 

- মাইনে দিয়ে পুষি তোকে৷ তোর কাজের মেথড জানার রাইট আমার আছে। 

- আর সে'টা জানতে না পেরে তুমি আমার পিছনে স্পাই লাগিয়েছ। পুলিশে ফাঁদে ফেলার ধান্দাও করছিলে৷ জানি৷ খবর পেয়েছি৷ 

- ইয়ে, শোন প্রবীর৷ তুই ওভাররিয়্যাক্ট করছিস৷ আমায় ফিরিয়ে নিয়ে চ'। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় না হয়..।

- কোথায় ফিরবে?

-ও মা৷ বাড়িতে।

- সে সুযোগ আর কোথায় বলো।

- কী ব্যাপার বল তো৷ কী সব আজেবাজে কথা বলছিস।

- তোমায় এম্পলয়ার হিসেবে বয়ে বেড়াতে বেড়াতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম বড়দা। এ'বার আমিই তোমার এম্পলয়ার৷ 

- তোর মাথাটা গেছে৷ তুই বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছিস।

- বড়দা৷ আমার কাজের মেথডটাও এ'বারে জানবে৷

- আমায় তুই ধরে রাখতে পারবি না!

- তোমায় তো আমি বেঁধে রাখিনি৷ দরজাটাও হাট খোলা৷ এই দ্যাখো, হাতে ছুরি পিস্তর কিস্যু নেই৷ তুমি ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছ না কেন?

- আমি..আমি..আমি..।

- কেন পারছ না?

- প্রবীর, আ..আমি বেরোতে পারছি না কেন?

- কারণ আমি এখন এম্পলয়ার৷ আমি না বলা পর্যন্ত পারবে না। তবে চিন্তা কোরোনা৷ তুমিও পাতি ক্লার্ক নও৷ 

- আমি..আমি কোথায়..।

- আমার অফিসে। একটু পরেই জিতু এসে তোমায় সব বুঝিয়ে দেবে। 

- জিতু?

- ওই যে, সিংঘানিয়াদের ম্যানেজার৷ 

- তুই ওকে খুন করিসনি?

- কথার খেলাপ আমি করিনা৷ আমি খুনি, তাই বাজে মিথ্যেও বলিনা৷ যে'টা তোমার মত বিজনেসম্যানের জন্য জলভাত।

- আমি কিছুই..।

- আমার খুনের কারখানাটা বড্ড বড় বড়দা৷ রোজ কত শত অর্ডার৷ অত লাশ নদীতে ফেললে দেশে মড়ক লাগবে যে৷ আর গুণী মানুষের হাতে প্রতিটা লাশই প্রডাক্টিভ রিসোর্স। নষ্ট করলে আমার ব্যবসাটা চলবে কেন? কাজেই তারা আমার হয়ে কাজ করে বেড়ায়।  আমিই তাদের এম্পলয়ার৷ বড়দা, এখন আমিই তোমার মালিক। সবচেয়ে বড় কথা মাইনে দেওয়ারও ঝামেলা নেই, বেগার খাটার আর্মি আর কী৷ 

- তুই কী সব...!

- খবরদার..আর তুই নয়৷ মালিককে তুই বলে ডাকাটা ভালো দেখায় না। যাক৷ তোমায় জিতুই সব বুঝিয়ে দেবে৷ সামনের হপ্তা থেকে ফিল্ডে নামবে'খন৷ এখন আসি৷ কেমন?

No comments:

পুরনো লেখা