Thursday, September 30, 2021

অশ্বিন ও ভদ্দরলোকের ক্রিকেট - অনুবাদ




আরে! আজ নাকি #WorldTranslationDay!

অতএব, রইল অনুবাদ।

***'ভদ্দরলোকের ক্রিকেট'***

- রবিচন্দ্র অশ্বিন।


১। ফিল্ডার বল ছুঁড়েছে দেখেই আমি রান নেওয়ার জন্য ছুটেছিলাম। ঋষভের গায়ে যে বল লেগেছে, সে'টা আমি দেখতে পাইনি৷

২৷ যদি সে'টা আমার দৃষ্টিগোচর হত, তা'হলেও কি আমি রান নিতাম?
আলবাত নিতাম৷ কারণ সে'টা বেআইনি নয়।

৩। মর্গান আমার ব্যবহারকে লজ্জাজনক বলেছেন৷ তাই কি?

আলবাত নয়।

৪। আমি কি ঝগড়া করছিলাম?

না৷ সোজাসাপটা কথাগুলো মাথা উঁচু করে নিজের হয়ে নিজেকেই বলতে হয়। নিজের বাপ-মা আর বড়দের থেকে আমি অন্তত সে শিক্ষাই পেয়েছি৷ আর পারলে নিজের ছেলেমেয়েদেরও সে'টাই শেখান, তা'তেই মঙ্গল। মর্গ্যান বা সাউদির কাল্পনিক ক্রিকেট জগতের ভালোমন্দ নিয়ে আমার বলার কিছুই নেই। কিন্তু তাই বলে তারা অকারণ কলার টেনে জ্ঞান দেবেন বা খিস্তি করবেন, সে'টা ঠিক হজম করা যায় না৷ আরও অবাক হই,  যখন দেখি এই সাদামাটা ঘটনার মধ্যেও মানুষজন ভালোমানুষ বা ভিলেন খুঁজে হদ্দ হচ্ছেন৷

যাক গে, 'ক্রিকেট ভদ্দরলোকের খেলা' বলে যাঁরা গলা ফাটাচ্ছেন, তাঁদের বলি; অসংখ্য ক্রিকেটার প্রতিদিন ক্রিকেট মাঠে জান লড়িয়ে দিচ্ছে, কেরিয়ার তৈরি করতে চাইছে৷ পারলে আদত সত্যিটা তাদের শেখান; একটা বাজে থ্রো থেকে পড়ে পাওয়া বাড়তি একটা রান দিব্যি গোটা কেরিয়ার দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। আবার কোনও এক ননস্ট্রাইকার এক গজের বেআইনি সুবিধে আদায় করে নিয়ে তার কেরিয়ার খতমও করে দিতে পারে। ভালোমানুষির লোভ দেখিয়ে তাদের ক্রিকেট-বুদ্ধিটুকু গুলিয়ে দেবেন না৷ ন্যায্য রান না নিয়ে বা ননস্ট্রাইকারকে আউট না করে ক্রিকেটে এগোতে চেয়ে লাভ নেই, আর তা'তে ভালোমানুষিও নেই।  এই সব ঠুনকো ভালোমন্দের জ্ঞান দেওয়া মানুষগুলো কিন্তু নিজেদের আখের গুছিয়ে দিব্যি সরে পড়েছেন।

খেলার মাঠে জান লড়িয়ে দেওয়া ছাড়া গতি নেই, এবং সে'টা করতে হবে খেলার সমস্ত আইনকানুন মেনেই৷ আর খেলা শেষ হলে বিপক্ষের সঙ্গে 'হ্যান্ডশেক' সেরে নিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসা।
ব্যাস!

'স্পিরিট অফ দ্য গেম' বলতে আমি অন্তত সে'টুকুই বুঝি৷

No comments:

পুরনো লেখা