Skip to main content

সোনার ছেলে



- এ'বার তো একটা সংবর্ধনার ব্যবস্থা করতে হয় হে দত্ত।

- অফিসের জুনিয়র ক্যাশিয়ার দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে৷ এশিয়াডে সোনার মেডেল পেয়েছে৷ এ তো আমাদের সকলের জন্য গর্বের ব্যাপার স্যার৷ সংবর্ধনা তো হওয়াই উচিৎ৷

- তা ছোকরা দেশে ফিরছে কবে?

- পরশু, সকাল এগারোটায় দমদমে নামছে৷ অফিস থেকে আমিই না হয় ওকে রিসিভ করব..।

- রিসিভ করবে? সে কী! অফিস কামাই করে এয়ারপোর্ট যাবে গায়ে হাওয়া লাগাতে? 

- না মানে, এত বড় একটা অ্যাচিভমেন্টের পর মনোজ ফিরছে৷ তাই ভাবছিলাম অফিসের তরফ থেকে একটা ফুলের বোকে নিয়ে যদি..।

- মনোজ না হয় এশিয়াডে মেডেল পেয়েছে৷ তোমার টেবিলের পেন্ডিং ফাইলগুলো তো কমেনি। অফিসের জরুরী কাজ বাদ দিয়ে  এয়ারপোর্ট ঘুরতে যাওয়ার কোনও দরকার নেই৷ 

- ওকে স্যর। 

- আর ফুলটুল ডায়রেক্টলি ওই সংবর্ধনা সভায় দিলেই হবে। আর সে ব্যাপারটাও চট করে সেরে ফেলতে হবে৷ মনোজ অফিস জয়েন করলেই৷ 

- ওকে স্যর। 

- তুমি বরং কিছু জরুরী ব্যাপার নোট করে নাও৷ সেই সংবর্ধনা সভায় ফুল ছাড়াও একটা মানপত্র চাই। দরকার একটা উপহার; উপহারের বাক্সটা ঢাউস হতে হবে কিন্তু তাই বলে খরচটা যেন ঢাউস না হয় দত্ত। ওই মিক্সার গ্রাইন্ডার গোছের কিছু একটা দিয়ে দিও৷ তেমন কোনও বড় ব্র‍্যান্ড দরকার নেই আবার, এ তো এশিয়াড। অলিম্পিক টলিম্পিক হলে তাও বুঝতাম৷ আর হ্যাঁ, উপহারটা আমি ওর হাতে তুলে দেব৷ মনে করে ফটোগ্রাফার ডেকো৷ সেই ছবি একটা প্রেস রিলিজে লাগিয়ে রিলীজ করতে হবে। পরের দিন দু'একটা কাগজে ছাপিয়ে দিও'খন; ম্যানেজিং ডিরেক্টর অফ মালকানি ইন্ডাস্ট্রিজ ফেলিসিটেটস এশিয়াড মেডাল উইনার। কেমন? রিলিজ করার আগে ড্রাফটটা আমায় দেখিয়ে নিও একবার৷

- ইয়ে স্যর, সংবর্ধনা সভায় স্পীচটীপ কিছু থাকবে নাকি?

- আলবাত। 

- বেশ৷ মনোজের এশিয়াড এক্সপিরিয়ন্স শেয়ারিংয়ের জন্য তা'হলে একটা আধ ঘণ্টার স্লট রেখে দিই? 

- আধ ঘণ্টা? তোমার সবেতেই শুধু ফাঁকিবাজির ফিকির দত্ত৷ অফিসশুদ্ধু লোকজন আধঘণ্টা কাজ কামাই করে মনোজের বকবক শুনবে? এ'দিকে এই কোয়ার্টারে রেভিনিউ যে পড়তির দিকে, সে'খেয়াল আছে কি?

- তা'হলে..।

- মনোজ মিনিট পাঁচেক বলুক না৷ কী বলতে হবে সে'গুলো আমি লিখিয়ে দেব৷ ওই, কোম্পানির সাপোর্ট না থাকলে আমি এদ্দূর যেতে পারতাম না৷ থ্যাঙ্কস টু আওয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইত্যাদি ইত্যাদি৷  আমি বলে দেব, তোমার কাজ ওকে শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়া৷ 

- বেশ স্যার৷ তাই হবে। 

- উম্...ওই সভায় আমিও না হয় দু'চারটে কথা বলব'খন৷ আফটার অল, সে'টা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে৷ আমি প্রাইমারিলি এক্সেলেন্সের সম্বন্ধেই বলব৷ একটু মোটিভেশনাল ইয়ে হবে আর কী৷ স্পোর্টিং স্পিরিটের রেফারেন্সও থাকবে৷ ওই, আমার জন্য মিনিট পনেরো-কুড়ির একটা স্লট রাখলেই হবে৷ 

- বেশ৷ 

- আর শোনো, দত্ত। এই'সব ঝুটঝামেলা মিটে গেলে মনোজকে একটু কাউন্সেল করতে হবে৷ খেলাটেলা ভালো ব্যাপার তবে অফিসের কাজে বেশি ফাঁকি পড়লেই চাপ৷ আরে আমিও তো প্রতি রোব্বারে গল্ফ খেলি, তাই বলে কি অফিসের প্রায়োরিটি ভুলে গেলে চলে? এশিয়াডের নাম করে সে ব্যাটা বড্ড বেশি ছুটি নিয়ে ফেলেছে৷ পরপর কয়েকটা উইকেন্ড যেন সে ছুটি না নিয়ে অফিসের জমা কাজগুলোকে সাফ করে৷ আর এ'বারে তার পুজোর ছুটি ক্যান্সেল। 

- তাই হবে স্যর৷ ইয়ে, আর কোনও ইন্সট্রাকশন?

- সংবর্ধনা সভার জন্য জব্বর সব ব্যানার ফেস্টুন চাই কিন্তু দত্ত৷ লোকে যেন টের পায় যে আমাদের কোম্পানি স্পোর্টিং ট্যালেন্টকে কালটিভেট করতে জানে৷ কেমন?

- জো হুকুম স্যর।

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু