Saturday, September 29, 2018

ইলেক্ট্রনিক্যালামিটি

যতই লজিকটজিক নিয়ে বাতেলা ঝাড়ি, ইলেকট্রনিক যন্ত্র কেনার সময় মন নরম হয় আসে। বারবার মনে হয় এ'সব জিনিস রাশিফল দেখে আর পঞ্জিকা কনসাল্ট করে কেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দু'টো জিনিস ঘটছে; এক, আত্মবিশ্বাসটিশ্বাস কমে টাকা-টু-ডলারে এসে ঠেকেছে আসে আর দুই, ইলেক্ট্রনিকের ভাগ্য ক্রমশ ফিক্সডিপোজিটের ইন্টারেস্ট হয়ে উঠছে।

ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় বাবা ফিলিপ্সের স্টিরিও টেপ রেকর্ডার কিনেছিলেন। সে'টার ব্যবহার তদ্দিন চলেছে যদ্দিন না ক্যাসেট ব্যাপারটা বাজার থেকে গায়েব হয়েছে। আর অন্যদিকে আমি। শৌখিন ইলেকট্রনিক কিছু কেনামাত্রই মনে হয় টাকার গায়ে চুন-খয়ের-চমনবাহার লাগিয়ে জলে দিলাম। আকাশে মেঘ দেখলে পলিথিনের প্যাকেট জোগাড় করে মোবাইল মুড়ে রাখি। ইয়ারফোন কানে কম থাকে, বেশির ভাগ সময় কাটে তারের জট ছাড়িয়ে। ঢাকুরিয়ায় মেঘ ডাকলে বেহালায় বৌকে ফোন করি টিভির প্লাগ খুলে ফেলতে।

কিন্তু তবু অতর্কিতে ঘটে যায় গোলমাল। রিভিউয়াররা বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর আনবক্সিং করে থাকেন, আর আমি খুঁজে বের করি আউট অফ দ্য বক্স যত সমস্যা। সাধারণত মোবাইল ফোনের স্ক্রিনট্রিন ভাঙে, আমার অতিসাবধানে রাখা ফোন বিতিকিচ্ছিরি ভাবে বেঁকে যায়৷ এই এখন যেমন বেঁকে যাওয়া ফোন থেকে টাইপ করছি। কেউ বাঁকা চোখে তাকালে খিচখিচ করে উঠি; শাওমি এক্সট্রা কার্ভড ফোন বের করেছে; লিমিটেড এডিশন, শুধু চীনের জন্য, আমি আমি  স্মাগল করিয়ে আনিয়েছি। ইয়ারফোন থেকে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত রকমের গা শিরশিরে শব্দ বেরিয়ে আসে; এক বন্ধুর ধারণা এলিয়েনরা যোগাযোগ করতে চায়। একটা ওজন মাপার যন্ত্র কিনেছিলাম, দু'মাসের মাথায় স্ট্রেট অক্কা। বাড়ির লোকজন এমন ভাবে তাকায় যেন কোনো অসহায় শ্রমিকের ঘাড়ে নিজের পাপী ওজন চাপিয়ে হত্যা করেছি।

আর সবচেয়ে খতরনাক ব্যাপার হল ওয়ারেন্টি। আজকাল হাসপাতালের চেয়ে ইলেক্ট্রনিক সার্ভিস সেন্টারে গেলে বেশি বুক কাঁপে। কাস্টোমার কেয়ার দাদা দিদিদের সামনে মনেমনে নতজানু হয়ে পড়ি। বিভিন্ন ব্র‍্যান্ডের ওয়ারেন্টি আর নেতাদের ভোটের আগের বাতেলা; এ'সব শুনে শুনে যে কত রোম ধ্বংস হয়৷ আমি বলি 'দেখুন তো, মনে হচ্ছে মোবাইলের জ্বর হয়েছে'। বরফ ঠাণ্ডা কণ্ঠে কাস্টোমারকেয়ার দাদা-দিদি বলেন 'আই অ্যাম সরি মিস্টার মুখার্জি। বড্ড দেরী করে ফেলেছেন। পেশেন্টের দু'টো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন কিডনি লাগবে'।
ব্যাস, হাতে কাচভাঙা হ্যারিকেন, মুখে পোড়া ছাই, কানে গলানো মোম আর জানে গরম কয়লা।

বছরভর যত ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের রিভিউ দেখি বা পড়ি, ততটা পরিমাণে ভালো বই পড়লে এবং সিনেমা দেখলে বছরখানেকের মধ্যে টিভি চ্যানেলের প্যানেলে প্যানেলে ঘুরে বিভিন্ন বিদগ্ধজনের মনপ্রাণ দগ্ধ করে ফেলতে পারতাম। সবাই অনুরাগ কশ্যপ থেকে মুরাকামি নিয়ে আলোচনা করে, আমি মনে মনে গীকিরঞ্জিত আর এনডিটিভি গ্যাজেটস আউড়ে চলি।

No comments:

ধপাস

সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। সাঁইসাঁই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। পড়ছি তো পড়ছিই। বহুক্ষণ পর আমার পড়া একটা প্রবল 'ধপ...