Skip to main content

পিহু আর ঠগি

- আয়। এ'দিকে আয়।
- তুমি ভালো লোক?
- হ্যাঁ। বিলকুল।
- তোমার নাম?
- হরেন। হরেন জ্যেঠু।
- আমার নাম পিহু।
- পিহু।
- হ্যাঁ। পিহু।
- তা, তুমি জেলখানায় কেন?
- বাহ্, তুমি জান না?
- না। এত্তটুকুন বাচ্চা তুমি, জেলে এলে কেন?
- জানি না।
- বাহ্ বাহ্। জানো না। দিব্যি। তা তোমার বাড়িতে কে কে আছে?
- কেউ নেই।
- সে কী!
- ছিল। মরে গেছে।
- সর্বনাশ।
- রাজার পেয়াদারা পুড়িয়ে মেরেছে। সবাইকে। বাবা, মা, দাদা। আমার বুড়ি পিসিমা। সবাই। মরে গেছে।
- তুমি বাঁচলে কী করে?
- আমি বাইরে খেলতে গেছিলাম যে। বিরুমিনের সঙ্গে।
- বিরুমিন? তোমার বন্ধু?
- সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
- তা জেলে এলে কেন?
- আমি রাজপেয়াদাদের ধাওয়া করে গিয়ে ঢিল ছুঁড়েছিলাম।
- ওহ হো।
- মা জানলে কিন্তু খুব রাগ করত। কাউকে মারতে নেই যে। মা মরে গেছে, তাই বকবে না। তুমি জেলে এলে কেন হরেন জ্যেঠু? তুমিও পেয়াদাদের মেরেছিলে?
- না। আমি ঠগি। তাই জেলে রয়েছি।
- ঠগি মানে ডাকাত। আমার বাবা ছোটবেলায় ঠগি দেখেছিল। বাবা কত বলত, কত মজার গল্প। কতরকম দেশ, কতরকম মানুষ। বাবা মরে গেছে, তাই আর গল্প বলবে না।
- পিহু, রুটি খাবে?
- খাবো। খুব খিদে।
- খাও।
- আর তুমি কি খাবে?
- ও মা! আজ অমাবস্যা,  জানো না? অমাবস্যায় রুটি খেলে বাতের ব্যথা বাড়ে।
- তা'হলে আমি খাই?
- খাও।
- উফ, বড় খিদে। দু'দিন আমায় কিছু খেতে দেয়নি।
- পিউ, পেয়াদারা তোমার বাড়ি কেন পোড়ালো? জানো?
- বাবা গান গাইত। পাহাড়ি ভাষায়। আমরা কিনা পাহাড়ি। আর সমতলে পাহাড়ের গান গাওয়া বারণ। তাই রাজা রেগে এমন করেছেন।
- তুমি জানো? পাহাড়ি ভাষা? পাহাড়ি ভাষার গান?
- এ বাবা! না। আমি তো পাহাড় দেখিনি কোনদিন। দাদাও দেখেনি। বাবা পাহাড়ের গল্প করত। বলত পাহাড় দেখাবে একদিন, আমি আর দাদা বড় হলে। দাদার আর পাহাড় দেখা হল না, সে মরেই গেল।
- খাওয়ার সময় কাঁদে না পিহু। তুমি জানো, তোমাদের পাহাড় থেকে সৈন্য আসছে?
- সৈন্য? তারা যে মন্দ! ভয়ানক!
- না, পাহাড়ের সৈন্যরা দিব্যি ভালো। তারা তোমায় পাহাড়ে নিয়ে যাবে। পাহাড়ি ভাষা শেখাবে, আর শেখাবে পাহাড়ি গান।
- আসবে? পাহাড়ি সৈন্য? আমি বাবার মত পাহাড়ি গান গাইতে পারব?

****

- ক্যাপ্টেন হরেন!
- সে..সে...সেলাম! মহারাজ!
- মদ ডুবে থাকলেই তো পারো হে।
- ম...মহারাজ। এক্সটার্মিনেশন ক্যাম্প চালানো। বেয়াড়া জাতের খোকাখুকুদের এক্সটার্মিনেশন ক্যাম্প। মদে ভেসে না গিয়ে উপায় নেই।
- ওদের সমূলে নিকেশ না করলে বিপদ হে হরেন। রক্তবীজের দল, বড় বিপদ। এ'সব কাজে বুলেট, গিলোটিন ব্যবহার করলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়, তা না তোমার যত অদ্ভুত টালবাহানা।
- আমার কাজ ঘুম পাড়ানোর আর রুটিতে বড় নিশ্চিন্দির ঘুম আসে। তাছাড়া, রুটিতে বিষ আর স্বপ্ন দুইই মেশানো বড় সহজ হে রাজাধিরাজ।

Comments

Popular posts from this blog

গোয়েন্দা গল্প

- কিছু মনে করবেন না মিস্টার দত্ত...আপনার কথাবার্তাগুলো আর কিছুতেই সিরিয়াসলি নেওয়া যাচ্ছে না।  - কেন? কেন বলুন তো ইন্সপেক্টর? - ভোররাতে এই থানা থেকে একশো ফুট দূরত্বে ফুটপাথে আপনাকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়।  - আপনার কনস্টেবল নিজের চোখে দেখেছে তো।  - না না, সে'টাকে আমি কোশ্চেন করছি না। আমি শুধু সামারাইজ করছি। আপনার গায়ে দামী চিকনের পাঞ্জাবী, ঘড়িটার ডায়ালও সোনার হলে অবাক হব না। এ'রকম কাউকে বড় একটা ফুটপাথে পড়ে থাকতে দেখা যায় না। যা হোক। হরিমোহন কনস্টেবলের কাঁধে ভর দিয়ে আপনি থানায় এলেন। জলটল খেয়ে সামান্য সুস্থ বোধ করলেন। অল ইজ ওয়েল। নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের সামান্যতম ট্রেসও নেই। শরীরে নেই কোনও চোট আঘাত।  - আমার কথা আমায় বলে কী লাভ হচ্ছে? আমি যে জরুরী ব্যাপারটা জানাতে মাঝরাতে ছুটে এসেছিলাম...সেই ব্যাপারটা দেখুন...। ব্যাপারটা আর্জেন্ট ইন্সপেক্টর মিশ্র।  - আর্জেন্সিতে পরে আসছি। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আপনি থানায় ছুটে এসেছিলেন। ওয়েল অ্যান্ড গুড। কিন্তু...ফুটপাথে পড়ে রইলেন কেন...।  - এ'টাই, এ'টাই আমি ঠিক নিশ্চিত নই। মাথাটাথা ঘুরে গেছিল হয়ত। আফটার অল বা

পকেটমার রবীন্দ্রনাথ

১ । চাপা উত্তেজনায় রবীন্দ্রনাথের ভিতরটা এক্কেবারে ছটফট করছিল । তার হাতে ঝোলানো কালো পলিথিনের প্যাকেটে যে ' টা আছে , সে ' টা ভেবেই নোলা ছুকছাক আর বুক ধড়ফড় । এমনিতে আলুথালু গতিতে সে হেঁটে অভ্যস্ত । তাড়াহুড়ো তার ধাতে সয় না মোটে । কিন্তু আজ ব্যাপারটা আলাদা । সে মাংস নিয়ে ফিরছে । হোক না মোটে আড়াই ' শ গ্রাম , তবু , কচি পাঁঠা বলে কথা । সহৃদয় আলম মিয়াঁ উপরি এক টুকরো মেটেও দিয়ে দিয়েছে । তোফা ! নিজের লম্বা দাড়ি দুলিয়ে ডবল গতিতে পা চালিয়ে সে এগোচ্ছিল ।   গলির মোড়ের দিকে এসে পৌঁছতে রবীন্দ্রনাথের কেমন যেন একটু সন্দেহ হল । ঠিক যেন কেউ পিছু নিয়েছে । দু ' একবার ঘাড় ঘুরিয়েও অবশ্য কাউকে দেখা গেলনা । ভাবনা ঝেড়ে ফেলে মাংসের পাকেটটায় মন ফিরিয়ে আনলেন রবীন্দ্রনাথ । বৌ নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে আজ । খোকাটাকে যে কদ্দিন মাংসের ঝোল খাওয়ানো হয়নি ।   খাসির রান্নার গন্ধ ভেবে বড় গান পাচ্ছিল রবীন্দ্রনাথের । সে বাধ্য হয়েই একটা কুমার শানুর গাওয়া আশিকি সিনেমার গান ধরলে ।

চ্যাটার্জীবাবুর শেষ ইচ্ছে

- মিস্টার চ্যাটার্জী...। - কে? - আমার নাম বিনোদ। - আমি তো আপনাকে ঠিক...। - আমায় বস পাঠিয়েছেন। - ওহ, মিস্টার চৌধুরী আপনাকে...। - বসের নামটাম নেওয়ার তো কোনও দরকার নেই। কাজ নিয়ে এসেছি। কাজ করে চলে যাব। - আসুন, ভিতরে আসুন। - আমি ভিতরে গিয়ে কী করব বলুন। সৌজন্যের তো আর তেমন প্রয়োজন নেই। আপনি চলুন আমার সঙ্গে। চটপট কাজ মিটে গেলে পৌনে এগারোটার লোকালটা পেয়ে যাব। আমায় আবার সেই সোনারপুর ফিরতে হবে। - যা করার তা কি এ'খানেই সেরে ফেলা যায়না? - এমন কনজেস্টেড এলাকায় ও'সব কাজ করা চলেনা। চুপচাপ ব্যাপারটা সেরে ফেলতে হবে। - প্লীজ দু'মিনিটের জন্য ভিতরে আসুন বিনোদবাবু। জামাটা অন্তত পালটে নিই। - কী দরকার বলুন জামা পালটে। - দরকার তেমন নেই। তবু। ওই, লাস্ট উইশ ধরে নিন। - ক্যুইক প্লীজ। ট্রেন ধরার তাড়াটা ভুলে যাবেন না। আর ইয়ে, পিছন দিক দিয়ে পালাতে চেষ্টা করে লাভ নেই। বসের লোকজন চারপাশে ছড়িয়ে আছে। - ও মা, ছি ছি। তা নয়। আসলে মিতুলের দেওয়া একটা জামা এখনও ভাঙা হয়নি। বাটিক প্রিন্টের হাফশার্ট। একটু ব্রাইট কালার কিন্তু বেশ একটা ইয়ে আছে। ও চলে যাওয়ার পর ও জামার ভাজ ভাঙতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু...আজ না হয়...। - মিতু