Wednesday, March 2, 2016

বাজেটের বাজে গল্প

-   বাজেট! ধ্যার ছাই। কী হিসেব করব? চাদ্দিকে শুধু নেই আর নেই। ডেফিসিটের বন্যা।
-   নেই তাই খাচ্ছ অর্থমন্ত্রী, থাকলে কোথায় পেতে?
-   দেশের নেতা হয়ে ছোলা ভাজা খাচ্ছেন আর এই এ’সব ফালতু বাত ঝাড়ছেন! গা পিত্তি পেট্রোল জ্বলা জ্বলছে।
-   আরে চটছ কেন? পকেটে আছে বত্রিশ টাকা। খরচ করতে হবে এক লাখ বাহান্ন হাজার দুশো ঊনপঞ্চাশ। এ’টুকুই তো?
-   চাষা আছে। যুদ্ধ আছে। কম চিন্তা?
-   আরে ও হবে হবে। থোড় বড়ি খাড়া। খাড়া বড়ি ডেফিসিট। ও হয়ে যাবে।
-   ফের এমন হাওয়ায় কথা কইছেন স্যার? কাল পার্লামেন্টে কাছাটা তো আমার খুলবে। আপনি তো গালে হাত দিয়ে বেরিয়ে যাবেন। ধুর।
-   এত টেনশন কীসের রে বাবা! পিছনে নেই চাম, রাধাকেষ্টর নাম। আর অত ভেবে কিস্যু হবে না। এই নাও। চাট্টি ছোলাভাজা।
-   কিস্যু হবে না?
-   আরে কিছু নেই যখন তখন কিছু হবে কী করে?
-   তাও তো ঠিক।
-   আরে শোন। এই না থাকার চেয়ে বড় প্রেম আর হয় না।
-   ধ্যার। আপনি ছোলা খান। আমি আগডুম বাগডুম যা হোক কিছু একটা খাড়া করে ঘুমোতে যাই। অপোজিশন এমনিতে চাবকাবে অমনিতেও বিছুটি ঘষবে।
-   তুমি ভারী নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছ অর্থমন্ত্রী।
-   এই দেখ! সবই তো নেগেটিভ। ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট, ইকনমিক গ্রোথ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ...।
-   আরে থাম থাম থাম। দাঁড়াও। প্রেমটা সহজে বুঝিয়ে বলি। নাও ছোলা নাও। আহ! নাও। চোয়াল শক্ত হলে কলজে মজবুত হয়।
-   যত বাজে কথা। তবে দিন। খাই।
-   শোন। যা বলছিলাম। এই যে জিডিপি দেখছ, এ হল লাবণ্য। আর তুমি...বুঝলে...।
-   আমি অমিত রায়, তাই তো?
-   এইত্তো ঠিক ধরেছ। আর এই বড় বড় না থাকাগুলোই তো রোম্যান্স।প্রেম। স্নেহ।
-   না থাকাটা রোম্যান্স? রাজকোষে পায়রা বাসা বাঁধছে, সে’টা রোম্যান্স?
-   আলবাত। সেই ফাঁকটাই তো তোমায় নিজের কাব্যি দিয়ে ভরতে হবে বাবা অর্থমন্ত্রী।
-   বাজেটে? কবিতা?
-   নয়তো আর বলছি কেন!
-   বেশ। তাহলে এবার বাজেটের নাম দিই শেষের কবিতা।
-   তাই করতে হবে। সেই নামই দাও। সমস্যা তাতেই মিটবে। বুঝলে হে অর্থমন্ত্রী? এ বাজেটের নাম দাও Cessয়ের কবিতা। কেমন?