Saturday, March 19, 2016

মন্মথ ও অমল



চায়ের কাপটা সামনের টেবিলে নামিয়ে রাখলেন মন্মথ। এবার যাওয়ার সময়। এবার বিকেল। 

অমল দরজার পাশে দাঁড়িয়ে। তার কাঁধে মন্মথের ব্যাগ। বুক পকেটে টিকিট। অনতিদূরে ট্যাক্সি। 

- "হাওড়া যাবিই?", অমলের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসলেন মন্মথ। 

- "আবার কবে দেখা হবে ঠিক আছে কোন?", ঢিপ করে প্রণামটা সেরে নিলে অমল।

- "সাবধানে থাকিস"।

- "আবার কবে আসবে মনুদা"?

- "দেখি। যবে। তবে"।

- "রাতে থাকলে তাও গল্প হত"।

- "উপায় নেই। জানিসই তো আমার কাজের কথা। তোর মত ব্যবসায়ী হলে বরং পায়ে পা তুলে কয়েকটা দিন কাটিয়ে যেতাম কলকাতায়"।

- "ভারী তো মাল সাপ্লাইয়ের কাজ, তাও তুমি সময়মত না ধরালে যে কী হত"।

- "ইম্পর্ট্যান্টলি এখন সংসারটা চালিয়ে নিচ্ছিস। দিনের শেষে জি হুজুরি করে দিনক্ষয় করতে হচ্ছে না"।

- " এ কাজেও কম সেলাম ঠুকতে হয় না জানো"।

- " হ্যাঁ রে অমল। তোদের সেই আমগাছটা কেটে ফেলেছিস না?"

- "দোতলা তোলবার সময় কেটে ফেলতে হল"।

- "গাছটার আম বড় মিঠে ছিল"।

- "মনুদা, কাল তৎকালে টিকিট কাটার একটা ব্যবস্থা করতে পারি এখনও। ট্যাক্সিওলাকে না হয় দশ বিশ টাকা দিয়ে দিচ্ছি"।

- "প্রণাম ঠুকেই ফেলেছিস। বাবা বলতেন প্রণামের ইনহেরেন্ট পারপাস্‌কে ঠেলে সরিয়ে দিতে নই"।

- "ধুস্‌। আমিই তো রিট্র্যাক্ট করতে চাইছি"।

- "ব্রহ্মাস্ত্র সাবান রাখার প্লাস্টিক কৌটো না বাপ। যে হাত পিছলে বাথরুমের ফ্লোরে পড়ল আর তুমি চুক চুক করে কৌটোটা তুলে তাকে রেখে দিলে"।

- "যাবেই"?

- " যাওয়ার কি আর উপায় আছে রে অমল? তবে এ ট্রেন যেতে দেওয়ার উপায় রাখিনি। চ'। বাকি কথা ট্যাক্সিতে হবে"।

No comments: