Tuesday, August 4, 2015

প্রফেসর গুপ্তর উপাখ্যান

-আমি কোথায়??
-আমার বাড়িতে।
-আপনি কে?
-আমি প্রফেসর আর গুপ্ত।
-এটা কেমন নাম?
-খুব গন্ডগোলে ঠেকছে, তাই না?
-খুব।
-তার কারণ আপনাদের সময় এমন আধুনিক নামের চল ছিল না।
-আমাদের সময় মানে??
-মানে আপনি হলেন আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের মানুষ।
-ঠাট্টা করছেন?
-আরে না না। আপনাদের সময় টাইম ট্র‍্যাভেল ব্যাপারটা ছিল না তো। তাই আপনার এমন আজগুবি ঠেকছে।
-টাইম কী?
-ট্র‍্যাভেল। মানে সময়ের এপার থেকে ওপারে যাওয়ার প্রযুক্তি। এসব তো এখন জলভাত। অবিশ্যি সময়ের পিছন দিকে যাওয়াটা আইন বিরুদ্ধ। তবু রিস্ক আমায় নিতেই হল বুঝলেন। দুম করে হাজার খানেক বছর পিছিয়ে গিয়ে প্রথমে আপনাকে নজরে এলো। ব্যাস। ক্লোরোফর্ম আপনার নাকে চেপে উঠিয়ে নিয়ে এলাম। কিছু মনে করেননি তো ভাই?
-আমার মাথাটা কেমন করছে।
-চিন্তা করছেন কেন মশাই? আপনাকে আপনার সময়ে ফেরত পাঠিয়ে তবে আমার সোয়াস্তি। আপনাকে শুধু আমার একটা কাজ করে দিতে হবে। না করলে মানছি না, এই বলে রাখলাম।
-কী কাজ?
-আমি একটা তাবড় সুদীর্ঘ উপাখ্যান লিখেছি। দুরন্ত কেতাব। কিন্তু প্রকাশ করতে পারছিনা।
-কেন?
-লজ্জার কথা মশাই। এ যুগে আমরা এখন টাইম ট্র‍্যাভেল করতে পারি, কিন্তু পর্ন দেখা বা পড়া বারণ। পর্ন ব্যান রয়েছে যে। আদিরস নিয়ে আদিখ্যেতা এই আধুনিক যুগে অপরাধ। এদিকে আমার এই বইটি আমি লিখেছি বহু বছর অক্লান্ত ভাবে গোপন রিসার্চ চালিয়ে। কিন্তু প্রকাশ করার উপায় নেই। করলেই সোজা জেল।
-এতে আমি কী করতে পারি?
-সব পারেন মশাই। আপনিই সব পারেন। আপনি তো আর আধুনিক ভারতে পয়দা হননি। আপনাদের আদিম যুগে তো আর পর্ন ব্যান করেনি কেউ। আপনাকে শুধু আমার এই লেখাটা আপনার যুগে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ করতে হবে। এ যুগের গভর্নমেন্ট না বুঝুক, আপনাদের যুগের মানুষ অন্তত বুঝবে এ কেতাব কতটা মূল্যবান। কথা দিন আপনি আমার এ অনুরোধ ফেলবেন না। আমি আপনার যুগোপযোগী ভাষার একটা অনুবাদ অলরেডি তৈরি রেখেছি। আপনি নিজের নামেই এ লেখা প্রকাশ করুন। খ্যাতি যশ আপনারই থাক। কিন্তু এই আদিরসাত্মক উপাখ্যানটিকে এই পর্ন ব্যানের অন্ধকার থেকে আপনি রক্ষা করুন প্লীজ। অরাজি হবেন না। 
-অরাজি হয়ে কী উপায় আছে! বেশ, তাই হবে। ও লেখা আমি নিজের নামে প্রকাশ করব। এবার আমায় তাড়াতাড়ি আমার সময়ে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুন দয়া করে।

-ওহ! যাক, একটা বোঝা আমার বুক থেকে নেমে গেল। মানব ইতিহাস আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে...মিস্টার...ইয়ে...এই দেখুন...আপনাকে সময়ের ওপার থেকে চুরি করে এনে, এতক্ষন গপ্প করে, নিজের গোপন লেখা পর্যন্ত গছিয়ে দিলাম অথচ আপনার নামটাই তো জানা হয়নি।
-আমার নাম? শ্রী বাৎস্যায়ন।

1 comment:

Sinjini Sengupta said...

Possible. Quite possible.