Tuesday, August 5, 2014

আমির আমি

“দেশের আমি। দশের আমি। তোমার আমি। । ছোটমামার আমি। ফজলির আমি। ছাতার বাঁটের খোঁচার আমি। আলু পোস্ত ঢেঁকুরের আমি। ফুটবল গ্যালারির বুক ভরা খিস্তির আমি।
আমি যে কি মনোরম। আমার পাসপোর্ট সাইজ ছবি ল্যামিনেট করে নিজের মানিব্যাগে আমার রাখা উচিৎ।
আমার হাসি আমার পেটের মেদ ঢেকে দেয়। আমার লুচি আদরের ক্ষমতা আমার বানান ভুলের হিসেব চুকিয়ে দেয়। আমি সুপার। আমি আমার বিছানার প্রধান মন্ত্রী, আমার সোফার ফাটা কেষ্ট, আমার ব্যালকনির হাওলা কেলেঙ্কারি। আমি নিজের থুঁতনি ছুঁয়ে বলছি; এমন সেকেন্ড পিস কহি নেহি”  

 এমন সব চমৎকার ভাবনা আর এক কাপ চায়ের মাখোমাখো মিলন ঘটবে এমন সময় মদনা এলে পূজোর চাঁদা চাইতে। সে বললে ‘পাঁচশো’ আমি বললাম ‘পঁচাত্তর’। আমি বললাম ‘প্লিজ স্যার’, মদনা বললে ‘ঢ্যামনা ব্যাটাছেলে’। আমি বললাম ‘একটু কনসিডার করুন স্যার,মাগ্যির বাজার’ মদনা বললে ‘প্যান্ট খুলে দেব ভাট বকলে’।

প্যান্ট খোলার কথায় মেজাজ সড়কে গেল। ভীষণ রেগে গেলাম। আগুন।বিস্ফোরণ। সটাং করে একটা পাঁচশো কা নোট মদনার হাতে দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। মদনা মুখে বললে ‘আসছি’! আমি মনে মনে বললাম ‘হারামজাদা’।

নব্বুই সেকেন্ডের মধ্যে নিজের ওপর কনফিডেন্স চটকে গেল। মালুম হল; আমি দেশের নই, আমি বারোয়ারীর। আমি দশের নই, আমি পার্টির। স্পষ্ট বুঝতে পারলাম গাওয়া ঘিয়ে ভাজা ময়দার সফেদ মায়াবী লুচি আমার জন্যে নয়, সর্ষের তেলে ভাজা আটার লালচে মোটা পুরি গিলবার মাল আমি। ঘেন্না ধরে গেল জীবনের ওপর।

নিজের ওপর ভয়ানক রাগ করে স্নান করতে চলে গেলাম।

চৌবাচ্চা থেকে দু মগ জল তুলে তালুতে ঢালতেই টের পেলাম আমার নিজের রিয়েল ক্লাসটা। নিজের ভিতরের নরম নরম দেবতা-সুলভ ভাবটা ফের তালুতে দপদপ করতে শুরু করেছিল। আমার লেভেল বুঝবে মদনার মত রাস্কেল ? ছোঁঃ! মদনার সার্টিফিকেট নিয়ে কে বাঁচিতে চায় বল, কে বাঁচিতে চায়! আমায় নোবেল টকাটক পেয়ে দেখাতে পার! অলিম্পিকে সোনা পেয়ে দেখাতে পার!কিন্তু ক্লাস টুয়েল্ভে চুমু কজন পেয়ে দেখাতে পারবে ? কজন ? আই ওয়ান্ট টু নো। আমার কাছে ইপ্সিতাদির দেওয়া চিলেকোঠা আদরের সার্টিফিকেট আছে। আমার প্রমোশন না থাকতে পারে, ইপ্সিতাদির গায়ের গন্ধের স্মৃতি আছে! আমি কবি না হতে পারি, কিন্তু বাথরুমের আড়ালে আমার একটা খোলতাই টপ্পা গানের গলা আছে। ভিড় বাসের হাতলে ঝুলে সপাট ঘুম মারার ক্ষমতা আছে। আনন্দবাজারি শব্দছকে পঁচানব্বই শতাংশ স্ট্রাইক রেট আছে। এ বয়েসেও মার কথা ভেবে ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলার দম আছে। আমি চ্যাম্পিয়ন। নিজের চ্যাম্পিয়ন দেহটাকে অনাবিল মার্গো ফ্যানায় ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়াটা একটা আর্ট। আর আমি একজন আর্টিস্ট। 
এ আমার শেষ পরিচয়। 

1 comment:

Anonymous said...

:)